পিরোজপুর প্রতিনিধি : দখল আর দূষণে পিরোজপুর পৌরসভার ৪২টি খাল ও প্রায় ৬০ কিলোমিটার ড্রেন এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে মশা ও দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো পিরোজপুর পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ৪২টি খাল।
একসময় এসব খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করলেও এখন তা বোঝার উপায় নেই। উদাহরণস্বরূপ, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাটকাঠী ভারানী খালের কথা বলা যায়। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মোড় দামোদর নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই খালটি এখন পুরোপুরি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
১৮৮৫ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয় পিরোজপুর। দেশের পুরোনো পৌরসভাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম হলেও পরিকল্পিত নগরায়ণের অভাবে এর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
পৌর কর্তৃপক্ষের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ও লক্ষাধিক মানুষের বসবাস থাকা এই পৌরসভার মূল শহরের অধিকাংশ খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা। এমনকি এককালের প্রবহমান খড়স্রোতা দামোদর খালের ওপর পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মসজিদ নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে।
যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন খনন না করায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে খাল দখল করে এবং খালের পাড়ে বড় বড় স্থাপনা তৈরি করে অধিকাংশ বাড়ির মালিক তাদের সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন।
পাশাপাশি শহরের ড্রেনগুলোকে ময়লার ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে খাল ও ড্রেনগুলো এখন মশা আর বিভিন্ন রোগজীবাণুর সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে।
মশার উপদ্রব নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম সিকদার বলেন, ‘মশার কামড়ে শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালিয়ে বাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এই মৌসুমে মশার দাপটে ডেঙ্গু মহামারি থেকে নিস্তার পাবে না পিরোজপুরবাসী।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৭ ও ১৯৮১ সালে দুইবার পিরোজপুরের বিভিন্ন জায়গায় খাল খননে অংশ নিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার হাতে খনন করা খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন করবেন তার ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমনটাই দাবি পিরোজপুরবাসীর।’
এ বিষয়ে পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বলেন, ‘ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। বরাদ্দ সাপেক্ষে অতি দ্রুতই খালগুলোকে দখলমুক্ত করা হবে।’
খালগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার মাধ্যমে এই খালগুলো খনন করা হবে বলে আমার প্রত্যাশা।’
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।