নেছারাবাদ প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় মো. শহীদুল্লাহ ও মো. হেদায়েত উল্লাহ পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী অভিযোগের তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারী মো. শহীদুল্লাহ নিজেকে বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য দাবি করে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও ২০১৭ সালে মো. জাহিদ হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু হয়। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রধান শিক্ষক এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তা স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করছেন না। বিদ্যালয়ের নামে থাকা কয়েকটি দোকানঘরের বরাদ্দ ও ভাড়ার অর্থের হিসাবও তিনি নিজেই পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়, উপবৃত্তির অর্থ নামে-বেনামে উত্তোলন, বিদ্যালয় মাঠে বসানো কোরবানির পশুর হাটের ইজারার টাকা বিদ্যালয় তহবিলে জমা না দেওয়া এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের যোগদানের পর থেকে সব আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম করেননি। সব হিসাব লিখিতভাবে দিতে প্রস্তুত আছেন। তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ-সংক্রান্ত নথিপত্র দেখানোর অনুরোধ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা উপস্থাপন করতে পারেননি। জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।