রিয়াজ ফরাজী, বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধিঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ধ্বংস হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। থানায় অভিযোগ করেও মিলছেনা প্রতিকার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলছে। থানায় অভিযোগ করে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সময়ের সঙ্গে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো আতংকে আছেন। এই বুজি মোর্শেদ রাতের আঁধারে হামলা করে, এমন আতংকে রাত কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ জানালেও কোনো ফল মেলেনি। এতে অতিষ্ঠ হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে টবগী ৫ নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও মাদকবিরোধী বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই খবর মোর্শেদ সোস্যাল মিডিয়া দেখতে পেয়ে এলাকায় এসে কয়েকজনকে হুমকি দিয়ে পালিয়ে রয়েছেন। পুলিশকে জানালেও কোনো ফল পাইনি, উল্টো নিরীহ মানুষকেই হয়রানি করে।’
দিনের বেলায় বাড়ীতে না এসে রাতের দিকে বাসায় ঢুকে আবার বেড়িয়ে যান মোর্শেদ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হান্নান বলেন, ‘এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করছে মোর্শেদ। ৩/৪ মাস আগে চরফ্যাশন থানায় ইয়াবাসহ আটক হন। পরে তার পরিবার জমিনে তাকে বেড় করেন। তাকে ভালমন্দ ডাক দিলে উল্টো তার হাতে নির্যাতিত হতে হয়। এই ভয়ে কেউ তাকে ডাক দেয়না।
মোর্শেদের বোনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন। তিনি অপ ক্যামরায় বলেন, তার কারণে আমরাও সমাজে মুখ দেখাতে পারিনা। সবাই আমাদের দিকে আঙুল তুলে কথা বলে। আমাদের কারো সাথে মোর্শেদ এর সম্পর্ক ভালো না। অনেক রাতে আসবে, এসে ভাত খেয়ে বেড়িয়ে যাবে। কই যায়, কোথায় থাকে কি করে? কিছুই জানিনা। প্রশাসনের উদ্দেশ্য বলবো, মোর্শেদ সহ ওর পিছনে কারা ওকে শেল্টার দেয়, তাদেরকে খুঁজে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হউক।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সুমন পাটোয়ারী বলেন, আমরা প্রতিবাদ করলেই মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দেয়, মারধরের ভয় দেখায়।আমাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আছে, কোন সময় মোর্শেদ কি করে পেলে এমন আতংকে থাকতে হয়।আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের নিরাপত্তা দিন, নইলে আমরা এখানে বসবাস করতে পারব না।
মোর্শেদের বড় ভাই সিরাজের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিরুপায়, তাকে ডাক দিতে গিয়ে অনেক হুমকি শুনেছি। এই মোর্শেদ গাঁজা নিজেও খায়, বিক্রিও করে এগুলো প্রশাসন দেখেনা। প্রশাসন যদি তাকে কিছু না করতে পারে, আমি কি করবো? মোর্শেদ সম্পর্কে আমার সৎ ভাই। এইজন্যই ওর সাথে কথা বলে, নিজের সম্মান হারাতে চাইনা।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।