রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

‎পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীর মিথ্যা মামলায় দিশেহারা ব্যবসায়ী বাছেদ মোল্লা

দক্ষিণ আইচা প্রতিনিধি : ‎ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা এলাকায় এক নারীর ধারাবাহিক অভিযোগ ও মামলায় চরম হয়রানির শিকার হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলমান এ বিরোধে তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

‎মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মো. বাছেদ মোল্লা। তিনি চরমানিকা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড চৌরাস্তা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী এবং আব্দুল হাকিম মোল্লার ছেলে।

‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাচেদ মোল্লা বলেন, একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী আবুল হোসেন বিদেশ যাওয়ার পূর্বে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তিন বছরের জন্য ১.৬০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে টাকা ফেরত দিয়ে জমি ও স্ট্যাম্প বুঝে নেওয়ার কথা ছিল।

‎তিনি আরো বলেন, প্রথম বছরে ১৯ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও পরে পারিবারিক কলহের জেরে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। পরে আমার পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রবাসী আবুল হোসেনের স্ত্রী ‎একটি মোবাইল রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হলে ২ আগস্ট ২০২২ তারিখে দক্ষিণ আইচা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তার শ্বশুরসহ আমাকে আসামি করা হয়।

‎বাছেদ মোল্লা বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় উপস্থিত হলেও বাদী নুপুর বেগম হাজির হননি। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে চরফ্যাশন নির্বাহী আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১৮৭/২৩ সালে মামলা দায়ের করেন নুপুর বেগম। সেই মামলা চলমান রয়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে আমি ১১ অক্টোবর ২০২২ তারিখে চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দাখিল করলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ ও মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ৩ মে ২০২৬ তারিখে আবারও দক্ষিণ আইচা থানায় আমার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের করেন নুপুর বেগম। এতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। থানায় আমাকে দুইবার ডাকা হলেও বাদী উপস্থিত হননি। আমি আজ পরিবার ও সমাজে চরম অপমানের শিকার হচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও মিথ্যা অভিযোগ থেকে পরিত্রাণের দাবি জানাচ্ছি।

‎সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাচেদ মোল্লার স্ত্রী বিউটি বেগম, মেয়ে সিমা আক্তার ও মাসুদা আক্তার, পিতা আব্দুল হাকিম মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা। ‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুপুর বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

আরো পড়ুন

লালমোহন গজারিয়া কৃষ্ণ কালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি।

লালমোহন (ভোলা) উপজেলা প্রতিনিধি  ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে অবস্থিত কৃষ্ণ কালী মন্দিরে শুক্রবার (৩ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *