মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬

আমতলীতে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সাত দিনে ৫৯ জন ভর্তি, অধিকাংশই শিশু এবং বয়স্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আমতলীতে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত সাত দিনে ৫৯জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্যরা। ৬বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ঠাই না হওয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিরুপায় হয়ে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু এবং বয়স্করাই বেশী। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্তÍ ৭দিনে আমতলী হাসপাতালে ৫৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ৬ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা সংকুলান না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে রোগীরা
বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সরকারী ভাবে এ চিত্র পাওয়া গেলেও গ্রামের চিত্র ভয়াবহ। অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎকের শরনাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী বলে এক বেসরকারী তথ্যে জানা গেছে। গুলিশাখালী ইউপি সদস্য ফারুক আকন বলেন, প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্তের রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বেডের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিসা নিচ্ছেন। এসময় দেখা গেছে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আড়াই বছরের শিশু তানহা ইসলাম পাতলা পায়খানা এবং বমি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মা তামান্না বেগম বলেন, মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে জায়গার অভাবে এখন বারান্দায় শুয়ে চকিৎসা নিচ্ছি। এখানে ফ্যান নেই গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের তিন বছরের জাওয়াদুল ইসলাম সোমবার বিকেলে পাতলা পায়খান নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেড নেই। গরমের মধ্যে বারান্ধায় শুয়ে
চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার মা আকলিমা বেগম বলেন, প্রচন্ড গরমে ছেলে আরো অসুস্থ হয়ে পরার উপক্রম হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইচর গ্রামের ষাটোর্ধ কহিনুর বেগম মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে বমি এবং পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। বাড়ি বসে গতকাল স্যালাইন খেয়ে ভালো হওয়ার চেষ্টা করেছি। ভালো না হওয়া মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে বেড নাই। তাই নিরুপায় হয়ে বারান্দায় শুয়ে গরমের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমতলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. হুমায়ুন ইসলাম সুমন বলেন, বিশুদ্ধ পানি সেবনের অভাব এবং প্রচন্ড গরমে তরমুজ খেয়ে শিশু এবং বয়স্ক মানুষ বেশী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। ডায়রিয়ার জন্য বেড না থাকায় রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আক্রান্তরা চিকিৎসক এবং নার্সদের আপ্রান চেষ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এটাই বড় কথা। হাসপাতালে খাবার এবং আইভি স্যালাইন পর্যাপ্ত আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুন

গৌরনদীতে পহেলা বৈশাখ নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সোলায়মান তুহিন,  গৌরনদী (বরিশাল): বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *