ফাহিম ফিরোজ : দিন দিন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই পড়েছেন মারাত্মক ঝুঁকিতে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গলবার (৫ মে) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান প্রকৌশলী ফেরদাউসসহ সেখানে উপস্থিত অন্যরা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নগর ভবনের বেশ কয়েকটি শাখা সদর রোডের সিটি সুপার মার্কেট ও ঝাউতলা সংলগ্ন সিটি মার্কেটে স্থানান্তর করা হবে। প্রয়োজনে ভাড়াকৃত বাসাতেও কার্যক্রম চালানো হবে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার সাততলা বিশিষ্ট সিটি সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে নির্মিত একটি সাধারণ পৌর ভবন বর্তমানে নগর ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯০ সালে উদ্বোধনের পর ২০০২ সালে এটি সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। কিন্তু জনবল ও সেবার পরিধি বাড়লেও ভবনের কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বরং নকশার তোয়াক্কা না করে দোতলা ভবনটিকে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে কক্ষ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিম ও প্রধান কলামে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ধারণক্ষমতা ছিল দোতলা পর্যন্ত। অতিরিক্ত তলা নির্মাণের ফলে ভবনটি ‘ওভারলোডেড’ হয়ে পড়েছে, যা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “এখানে এক মুহূর্ত অবস্থান করাও বিপজ্জনক।”
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল বাসার জানান, ভবনটির কোনো কাঠামোগত নকশা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধান কলামের ফাটলগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সাড়ে ৪০০ জনবলের জন্য নির্মিত ভবনটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার মানুষ এখানে যাতায়াত করেন। গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর সম্প্রসারিত ভবনটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও মূল ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে, ফলে চাপ আরও বেড়েছে।
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও আতঙ্কে রয়েছেন। শাহিন হাওলাদার নামের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “দ্বিতীয় তলায় উঠলেই ভয় লাগে। যেকোনো সময় কিছু একটা ঘটতে পারে মনে হয়।”
বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছে এই কর্পোরেশন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রায় ৬ একর জমির ওপর নতুন ১৫ তলা বিশিষ্ট নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন মানবকণ্ঠকে বলেন, “নগর ভবনটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সবার জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই দ্রুত কার্যক্রম স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা ভাড়া বাসায় কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে। নতুন ভবনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে, দ্রুত অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।”
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।