সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র পরিবর্তন ও বহিরাগত পরীক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে বেআইনিভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া ২৮ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার্থীর পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই না করে বহিরাগত একজনকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীর বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে অভিযুক্তদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদ অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের তদন্তে সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অপর এক অভিভাবক বলেন, “সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার জানান, পরিচালনা পর্ষদ থেকে ওই দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ও তদন্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এর সাথে দুইবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তুমি রিসিভ করেননি।
অপর শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুল আলম জানান, “আমি মঙ্গলবার নাজিরপুর যাব। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দেখবো। এখনো আমি পুরো বিষয়টি দেখিনি। অফিসে কাগজ এসেছে, তবে আমি বর্তমানে অফিসের বাইরে আছি।”

আরো পড়ুন

রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয় : ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কোনো রোগী যেন ভোগান্তির শিকার না হন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *