আমতলী প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলীতে জমির দলিল চাইতে গেলে ভাবী কহিনুর বেগমকে পুলিশের এএসআই মোঃ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে তার সহযেীতারা কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ কহিনুর বেগম দেবর মোঃ খলিলুর রহমানকে প্রধান আসামী করে বুধবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামে গত শনিবার সকালে।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের মোঃ ইসমাইল ঘরামী তার বাবা হামেদ ঘরামীর ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ত্রিশ হাজার টাকা দেয়। ওই টাকা দেয়ার পর ২০১৩ সালে ইসমাইল মারা যান। এরপর হামেদ ঘরামীর মৃত্যু ছেলের স্ত্রী ও তার তিন সন্তানকে জমির দলিল দেয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠক হয়। কিন্তু কোন মিমাংশা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে হামেদ ঘরামী জমির দলিলতো দেয়নি উল্টো নাতিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন। গত শনিবার সকালে হামেদ ঘরামীর মৃত্যু ছেলের স্ত্রী মোঃ কহিনুর বেগম পুনরায় ওই জমির দলিল চাইতে যায়।
এতে ক্ষিপ্ত হন হামেদ ঘরামী ও তার ছেলে ভোলা জেলার তজিমউদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতের কর্মরত এএসআই মোঃ খলিলুর রহমান। এক পর্যায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় বুধবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মোসাঃ কহিনুর বেগম বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনে খলিলকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী ভুক্তভোগী মোসাঃ কহিনুর বেগম কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী ইসমাইল ঘরামী তার বাবার ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এ টাকা দিয়ে তিনি মারা যান।
এ্রপর আমার শ্বশুর জমির দলিল দেয়নি। গত শনিবার সকালে আমি আমার শ্বশুরের কাছে জমির দলিল চাইলে গেলে তিনি ও তার ছেলে এএসআই মোঃ খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
তিনি আরো বলেন, খলিল পিস্তল দিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। ভোলা জেলার তজিমউদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের কর্মরত এএসআই মোঃ খলিলুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।
আমি কাউকে মারধর করিনি। আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের পেশকার মোঃ আবু বকর বলেন, বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তালতলী থানার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ কাওছার মুঠোফোনে বলেন, এএসআই খলিলের রহমানের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।