নিজস্ব প্রতিবেদক,
বরিশালে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির প্রকাশ্য প্রতিবাদ করায় এক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন একটি প্রবাসী পরিবারের ৩ ভাইসহ অন্তত ৫ থেকে ৬ জন। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী হুমায়ূন জানান,আজ মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি তীব্র প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মূল স্লোগান ছিল”যারা মাদক বেচে, বাংলায় তাদের ঠাঁই নেই।”
মিছিলটি কিছু দূর এগোতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী দুই দিক থেকে ঘিরে ফেলে মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের দাবি, স্থানীয় সজিব, জহির, রুমন ও জুয়েলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই হামলা পরিচালনা করে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হামলাকারীরা নারী ও শিশুদেরও ঢাল হিসেবে মিছিলে লেলিয়ে দেয়।
হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়
হুমায়ুন কবির মৃধা ও তার ভাই নুরুল ইসলাম মৃধা, ও ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম মৃধা।
এছাড়াও মিছিলে অংশ নেওয়া আরও বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালের ওপরের তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির জানান: কয়েকদিন আগে সজিব ও তার সহযোগীরা আমাদের প্রবাসী পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। আমরা সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আজ সকালে সকাল সাড়ে ৭টায় আমি যখন আমার মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তারা রাস্তা জনশূন্য পেয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাকে একা আক্রমণ করে এবং আমার সাথে থাকা ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকায় মাদকের রাজত্ব বন্ধ করতে বিকেলে আমরা যখন মিছিল বের করি, তখন তারা আমাদের কুপিয়ে জখম করে।
হামলাকারীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং ঘটনার ভিন্ন মোড় দিতে ইন্টারনেটে একটি মারামারির ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিপক্ষরা ডিজিটাল কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। তারা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও সাজানো ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যার সাথে মূল ঘটনার কোনো সত্যতা নেই।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, হামলার বিষয় শুনে আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।