মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, এক বছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছে এবং সম্প্রতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের কল্যাণে সবাইকে একইভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বীনি কুমার ইনস্টিটিউট মাঠে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে বরিশাল নগরের ত্রিশ গুদাম সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাড়ে একযোগে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আজ গৌরনদীতে ৬০০ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আরও পরিবার বাকি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের হাতেও ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যে বাজেট পেয়েছিল, সেটি ছিল আগের সরকারের প্রণীত বাজেট। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত নতুন বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের ভিত্তিতে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সে হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় গড়ে প্রায় ৭ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা অনার্স (স্নাতক) পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করবো। যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। শিক্ষার পাশাপাশি নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।”

দুপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। মাত্র কয়েকদিন আগে স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণি-পেশার, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে হটিয়েছে। এভাবে সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই উপকৃত হবো। আসুন, এই বৃক্ষরোপণ দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই-যে যার অবস্থান থেকে পরিবেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তিনি বলেন, “নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। নিজেদের ঘর যদি নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে ঘর যেমন নোংরা হয়ে যায়, ঠিক তেমনি আমরা যদি আমাদের এলাকা, পাড়া ও দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখি এবং পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরাই। অন্য দেশের সুন্দর পরিবেশ দেখে আফসোস না করে নিজেদের দেশকেই সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে।”

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যার ওপরও গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। স্থানীয়দের প্রতি আমার অনুরোধ, সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নিন। গাছ বড় হলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, এখানে আগত সকল মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।” সাগরদী খাল রক্ষায় স্থানীয়দেরও দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ খালের যত্ন নেওয়া শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়। খালের দুই পাড়ের মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। খালের মধ্যে কেউ যেন পলিথিন, প্লাস্টিক বা পানির বোতল না ফেলে। অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করবেন। সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম বরিশাল সফর। স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনা গ্রহণের পর তিনি গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বরিশাল নগরে আসেন। সড়কের দুই পাশে গড়ে তোলা মানবপ্রাচীরের মধ্য দিয়ে তার গাড়িবহর বেলা ২টার দিকে বরিশাল নগরের বান্দরোডে পৌঁছান। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিকে বিকাল ৪টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়রম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্যেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

আরো পড়ুন

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আযাদ আলাউদ্দীন।। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের গৌরনদীতে নারিকেল ও নিম গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *