বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
এবার কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বারেক মোল্লার দখলে থাকা জমি নিজের দাবী করে উদ্ধারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে নিজে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা। এসময় ওই জমির মালিকানা দাবীদার পৌর বিএনপির সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া, পৌর যুবদলের সহ সভাপতি মোঃ নুর আলম শেখ ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন,
আমাদের ভোগদখলীয় জমি, বিএনপির কার্যালয় আওয়ামী সরকারের সময় দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে আঃ বারেক মোল্লা। গত ১৭ বছর আমাদের ভোগদখল করতে দেয়নি। জোরজবরদস্তি করে ভোগ করে আসছে। হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর কিংবা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা আমাদের রেকর্ডীয় জমি উদ্ধার করতে পারতাম। কিন্তু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আমরা আইনি এবং সামাজিকভাবে সুরাহার চেস্টা করেছি। কোন সুরাহা পায়নি। তাই প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে দেশব্যাপী ও আপনাদের গণমাধ্যমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতার দখলে থাকা জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। আমরা নানাভাবে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত। মামলা হামলার শিকার হয়েছি।
আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, এসএ জেএল নং-৩৪, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এসএ ৫১৭৮, ৫১৮০ ও ৫১৮৪ নং দাগে মোট ১৭.৫০ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আরজ আলী শেখ। উক্ত আরজ আলী শেখের নিকট থেকে ১৯৬৫ সালে ১৮০৭ নং সাব-কবলা দলিলমূলে ১.৩৩ একর জমি ক্রয় করেন আঃ আলী শেখ এবং তিনি উক্ত জমির মালিক ও দখলকার হিসেবে ভোগদখলে থাকেন। পরবর্তীতে উক্ত আঃ আলী শেখের নিকট থেকে আমি আঃ আজিজ মুসুল্লী, আলী আহম্মেদ শেখ, আঃ মন্নান (ময়নুদ্দিন) ও নুর আলম শেখ গং যৌথভাবে ২৫/০২/১৯৯৭ ইং তারিখে ৫৮৫ নং সাব-কবলা দলিলমূলে ২১ শতাংশ জমি ক্রয় করি এবং দাতা আঃ আলী শেখের রেকর্ডীয় ৩.০৩৫ একর এবং ক্রয়কৃত ১.৩৩ একর, মোট ৪.৩৬৫ একর জমি থেকে বিক্রিত জমি বাদে ১.১৪ একর জমি অবশিষ্ট থেকে যায়। আঃ আলী শেখের অবশিষ্ট জমি থেকে ১২/০৩/২০০৯ ইং তারিখে ১২৯০ নং দলিল মূলে ৭৫ শতাংশ জমি নুর আলম শেখ মালিক হন। যা দীর্ঘদিন ধরে আমরা কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করি। পরবর্তীতে আমরা উক্ত জমিতে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একটি কার্যালয় স্থাপন করি। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে আমাদের বিএনপির কার্যালয় দখল করে এবং সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করে। পরবর্তীতে আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে অনুমতি ও আইনগত অধিকার ব্যতীত মাটি ভরাট করা হয় এবং জমির সামনের অংশে মার্কেট নির্মাণ করে।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভুইয়া উক্ত খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিকের নিকট থেকে ২২/০৬/২০০৫ ইং তারিখে ৩৬০৫নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৬০০ একর এবং ৩০/০৬/২০০৫ইং তারিখে ৩৯১৭নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৮৫০ একর জমি ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে থাকে। ২০০৯ সালে আব্দুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, কাজী আলমগীর উক্ত জমি ও মার্কেট দখল করে তাদেরকে উৎক্ষাত করে।
এতে বাধা দিলে হামলা ও হয়রানির শিকার হই। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করে। এসব ঘটনার কারণে আমরা দীর্ঘদিন যাবত নিরাপত্তাহীনতা, ভয়ভীতি, হয়রানি এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
আমরা কোনো ধরনের সংঘাত, প্রতিশোধ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই। আমরা আইন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। আমাদের একমাত্র দাবি হলোঃ বৈধ দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।
আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভূমি প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের নিকট আমাদের ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া ও নুর আলম শেখ বলেন, আমরা আমাদের জমি উদ্ধারে সামাজিক ও আইনী সুরক্ষা চাই। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় অথচ আমাদের সম্পদ উদ্ধারে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এজন্যই আমরা আইন হাতে তুলে নেয়নি।
এবিষয়ে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা জমি দখলের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার কোন মার্কেট নেই। আমি কারো জমি দখল করিনি।
যে জমি বা মার্কেটের কথা বলা হয়েছে ওই জমি বা মার্কেটের মালিক তার ভাতিজা বেল্লাল মোল্লা। ১৯৯৯ ই সালে সেকান্দর আলী শেখ এর কাছ থেকে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী ক্রয় করে। তার কাছ থেকে বেল্লাল মোল্লা ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করে। এ জমি নিয়ে আদালতের ৫টি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মামলা চলমান রয়েছে। বাবা না থাকায় ভাতিজার পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন মাত্র।
তিনি দাবি করেন, কুয়াকাটা বেরীবাধের বাহিরে বিএনপির কখনো কোন অফিস ছিল না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানী এবং মার্কেট দখলে নিতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তার দাবী।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।