বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬

বরিশালে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ৪ আগস্ট বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিআর ৭৫৬/২৬ (কোতোয়ালি) মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন—বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আয়শা আক্তার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সন্যামত, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন সন্যামত, দুধল ইউনিয়নের পিলখানা গ্রামের আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মাইনদ্দিন খান এবং একই এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খান।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাতশালা গ্রামের এস এম সাইয়্যেদুর রহমান বাদী হয়ে রঘুনাথদ্দিন গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন সন্যামত, আয়শা আক্তার ও রাহাতকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলায় রঘুনাথদ্দিন মৌজার ৯৪ নম্বর খতিয়ানের মজিদুনেছা ও রাবেয়া খাতুনের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে সাড়ে ৩১ শতাংশ জমি আত্মসাতের চেষ্টা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য বরিশাল সিআইডিকে দায়িত্ব দেন। পরে সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে গত ২ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আদালত ওই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ৪ আগস্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে মোফাজ্জল হোসেন সন্যামত ও আয়শা আক্তার তার ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রঘুনাথদ্দিন মৌজার প্রায় সাড়ে ৩১ শতাংশ জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি ও তা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, আসামি মাইনদ্দিন খান ও মোফাজ্জল হোসেন সন্যামত পরস্পর শ্যালক-ভগ্নিপতি। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরেও জমির মালিকানা ও দলিল সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই দিনের বেলায় আয়শা আক্তারের ঘর থেকে একটি দলিল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে উদ্ধার করা দলিল আদালতে জমা দেওয়া হয় বলে মামলার বাদী পক্ষ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর মামলার বাদীকে আসামিদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বাদী দাবি করেছেন, মামলা দায়ের ও আদালতের আদেশের পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

হিজলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

হিজলা প্রতিনিধিঃ বরিশালের হিজলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *