ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী: বরিশাল জেলার মুলাদী পৌরসভায় আল-আকসা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক
সেন্টার, বরিশালের নামে ভুয়া প্রজেক্ট দেখিয়ে চাকুরির প্রলোভন দিয়ে অর্ধলক্ষাধীক
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের
আর্জি কালিকাপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন তিনি প্রতারণা
করে যাচ্ছেন ভুক্তভোগীদের সাথে। গতকাল ৬ই সেপ্টেম্বর ঘটনাটি জানাজানি হলে, মুলাদী
থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন জহির
বেপারীর বাড়ীতে আল-আকসা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বরিশাল হেল্প
চ্যারিটি’ ও ‘ইইউ প্রজেক্ট’-এর আওতায় চাকুরী দেওয়া স্বাস্থ্য সেবায় চাকুরী দেয়ারর
লোভ দেখিয়ে মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে স্থানীয় ২৫-৩০ জন তরুণীকে ৮/১০
দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের সময় কোনো প্রকার ভাতা বা টিফিনের ব্যবস্থা
না করে উল্টো প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ১৫৩০ টাকা, ৪১০০ টাকা এবং ১২৩০ টাকা
করে প্রায় বিভিন্ন অংকে অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন
তাদের সাথে অশালিন ও খারাপ ভাষায় কথাবার্তা বলেন সিদ্দিকুর রহমান ও তার লোকজন। এতে
ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। গত ২দিন নতুন করে লোক সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণ শুরু করে।
ভুক্তভোগী কামরুন নাহার ইতি জানান, তার কাছ থেকে ১৫৩০ টাকা নেওয়া
হয়েছে। এছাড়া কানিজ ফাতেমার কাছ থেকে ১২৩০ টাকা, আছমার কাছ থেকে ১৫৩০
টাকা, মুন্নির কাছ থেকে ১২৩০ টাকা এবং মরিয়মের কাছ থেকে ১৫৩০ টাকাসহ
অনেকের কাছ থেকেই বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এ সময় কয়েকজন সিদ্দিকুর
রহমানের কাছে তাদের টাকা ফেরত চাইতে দেখা যায়।
এক ভূক্তভোগীর আত্মীয় ৯৯৯ এর মাধ্যমে মুলাদী থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান অনৈতিক ভাবে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ
ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে জহির বেপারী টাকার দায়িত্ব নেয়। সিদ্দিকুর রহমান ৭ই
সেপ্টেম্বর এর মধ্যে টাকা দিবে বলেও জানান।
এ বিষয় জহির বেপারী বলেন তিনি কোন কিছু জানেন না তার বন্ধু অঞ্জন দাসের
মাধ্যমে তাদের সাথে পরিচয় হয় এতে তিনি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে জড়িত হয়। তার
বাড়ীতে মূলত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তবে কিসের কি সেটা তিনি বলতে পারেননি।
প্রশিক্ষণ ও চাকুরির বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি
নিজেকে আল-আকসা হাসপাতালের ডিরেক্টর হিসেবে দাবি করেন। তবে কোন প্রজেক্ট বা
কোথায় চাকরি দেওয়া হবে এ বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি এবং বৈধ
কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
এ বিষয়ে আল-আকসা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের হাসপাতালে এ ধরনের
কোনো প্রজেক্ট বা কার্যক্রম নেই। যদি কেউ তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে
প্রতারণা করে থাকে, তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।