নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে জমি বিক্রির ৫১ লাখ টাকার মধ্যে ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ না করা, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন মোছা. তানিয়া আক্তার নামের গৃহবধূ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তানিয়া জানান, তার স্বামী মিলন হাওলাদার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর চিকিৎসা ও ঋণ পরিশোধের জন্য স্বামীর ক্রয়কৃত ও পৈতৃক সম্পত্তির ৩৩ দশমিক ১৯ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
তার দাবি, উজিরপুর উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের বাড়ইখালী গ্রামের মনির হোসেন সুমনের স্ত্রী লাইজু বেগম ওই জমি কেনার আগ্রহ দেখান। আলোচনার মাধ্যমে জমির মূল্য ৫১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জমির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। জমি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পুরো টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানান লাইজু বেগম।
পরবর্তীতে, রেজিস্ট্রি অফিসে এত টাকা নেওয়া নিরাপদ নয়- এমন কথা বলে বাইরে গিয়ে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। তার কথায় বিশ্বাস করে তারা অপেক্ষা করলেও পরে লাইজু বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় তিন মাস পর তিনি ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৪২ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তানিয়া।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমির টাকা চাইলে লাইজু বেগম তাদের বসতবাড়ি ও দালানের ওপরও দাবি করেন এবং বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ ঘটনায় আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
তানিয়া জানান, গত ২২ আগস্ট সিআইডি কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে লাইজু বেগম ৫১ লাখ টাকা মূল্যের জমি রেজিস্ট্রেশনের কথা স্বীকার এবং ৯ লাখ টাকা পরিশোধের কথা জানান। ৯ লাখ টাকা ফেরত দিলে দলিল হস্তান্তরের বিষয়েও বৈঠকে কথা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে লাইজু বেগম তাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তানিয়া। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরেকজন ভুক্তভোগী বাবুল হাওলাদার জানান, লাইজু বেগম একজন সুদ ব্যবসায়ী। তিনি একইভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তার চার শতাংশ জমি আত্মসাত করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দুলাল হাওলাদার, হোসনেয়ারা বেগম, মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাইজু বেগম। তিনি দাবি করেন- এক বছর আগে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এখন শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মামলা দিয়েও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।