ফাহিম ফিরোজ : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কাটতে না কাটতেই এবার বরিশালের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে আটা-ময়দার দাম। কোনো কোনো প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে এক লাফে বেড়েছে ২০ টাকা। প্যাকেটজাত আটার দাম বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি খোলা ময়দা, আটা ও সুজির দামও বেড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ ও নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের পণ্য না থাকায় দামে প্রভাব পড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বাজার ও খাবার হোটেল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই দিনের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল প্রায় ৫০ টাকা। প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। খোলা ময়দার দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় উঠেছে। খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। একই সঙ্গে সুজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, বাজারে তীর ব্র্যান্ডের আটা-ময়দা না থাকায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে দামের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।
তবে বাজারে পণ্য সরবরাহের ঘাটতি থাকলেও এভাবে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার রোডের ব্যবসায়ী দীপক বলেন, আটা ময়দার ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা বেড়েছে।
পরোটার আকার ছোট, বাড়তে পারে দাম:
আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও। ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে পরোটার আকার ছোট করার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ী।
খাবার হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ‘ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় পরোটার সাইজ ছোট করা হয়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে হয়তো পরোটার দামও বাড়াতে হবে।’ ব্যবসায়ীদের এমন বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আটা-ময়দার বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু ঘরোয়া বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; হোটেল-রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবারের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
দুই দিনে কেজিতে ১০ টাকা বেশি:
কাউনিয়ার বাসিন্দা ক্রেতা সুজন বলেন, ‘গত দুই দিনের ব্যবধানে প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এখন ৬০ টাকা দিয়ে এক কেজি আটা কিনতে হচ্ছে।’
আমানতগঞ্জের গৃহবধূ তানজিলা আক্তার বলেন, ‘বাজারদর এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে হঠাৎ করে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
নজরদারি বাড়ানোর দাবি:
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ যাচাই এবং মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন হতে হবে। রশিদ ছাড়া কোন পণ্য কেউ ক্রয় বিক্রয় করবেন না। ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আটা, ময়দা ও সুজির মতো দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদার এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।