বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন স্পটে নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই চলছে মা ইলিশ শিকার। মৎস্য দপ্তরের অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া ঢিলেঢালা হওয়ায় নদীতে মা ইলিশ নিধন থামছে না। বিশেষ করে নদীর ভাটির টান বা ‘ঘোন’ শুরু হলেই শত শত জেলে একসঙ্গে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নদীতে মৎস্য বিভাগের একটিমাত্র স্পিডবোট টহলরত থাকলেও তা জেলেদের রোধ করতে একেবারেই ব্যর্থ হচ্ছে। অভিযানের গতি ও সক্ষমতা কম হওয়ায় অসাধু জেলেরা নির্বিঘ্নে মা ইলিশ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়ে এই অবৈধ মাছ ধরা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের বর্তমান সংকটের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে পুলিশ ফোর্সের ঘাটতি। উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানিয়েছে, ১৬ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফলে এই পাঁচ দিন মৎস্য রক্ষা অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্য পাওয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পুলিশ সদস্য না থাকায় উক্ত পাঁচ দিনে নদীতে ইলিশ শিকারিদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে করে মা ইলিশ রক্ষার মূল উদ্দেশ্যই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও নদীপাড়ের সাধারণ মানুষের দাবি, চলমান ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো ও নিয়মিত মহড়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ সময়গুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (যেমন কোস্ট গার্ড বা র্যাব) মোতায়েন করে মা ইলিশ নিধন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।