বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

নয়ন আহমেদ —এর তিনটি কবিতা

অনবরত পাখিদের দিকে

অনবরত পাখিদের দিকে উড়ছে আমার প্রক্ষেপ;
আপাদমস্তক লাল লাল ঢেউ; হরিদ্রা আগুন।
যুবতির কুসুমসুবাস, আয়না ও চিরুনির মধ্যকার
ব্যাকরণ ; পার্শ্ববর্তী নদী।
এইসব জাগতিক ভাষাতত্ত্ব সজ্জা পেতেছে মর্মমূলে।
হৃদয়ের পুষ্প বনে; যা কিছু আরাধ্য , গ্রাহ্যপাঠ অনুবাদ করে কারা?
কোন্ ভাষা মুদ্রিত হয়? বাক্যতত্ত্বে এমন আড়াল
প্রযোজনা করে!
তাকে বলি, প্রিয়তমা। বলি, স্রোতস্বিনী।
যা কিছু রোদ হবে, মাঠ হবে, মাঠের কিনারে
কমলা রঙের এক পৃথিবীতে ধান হবে।
চিরদিন এইসব রূপকথা হবে।

তবুও মানুষ আজ খাঁচা ছাড়া অধিক কিছুই হবে না।
এইটুকু ভেবে ভেবে সূর্যকে বলেছি অস্ত যেতে।
কাল ওঠো। তারপর রোদ নিয়ে পরিপূর্ণ হৃদয়ের মতো
গল্প বলো। গল্প বলো সভ্যতার।

পার্থিবতা ডানা মেলে।

অনবরত, পাখিদের দিকে উড়ছে আমার প্রক্ষেপ।
আকাশচারী ,আকাঙ্ক্ষাপিয়াসী।

আমরা পাখিদের দিকে যাবো;
অনন্য আবেগে।

 

সংস্করণ

সংস্করণের মধ্য দিয়ে গিয়েছে সকালটা।
একগুচ্ছ ঘাসের বর্ধিত সংস্করণ দেখলাম ; জায়গা দখল করলো কিছুটা।
জাজিমের মতো দেখালো ভূমণ্ডল।
সন্তানদের তিনজোড়া চোখের নতুন সংস্করণে মুগ্ধ হলাম।
আলো জ্বললো ; ইহ ও ঐহিকতা ফুটলো গাঢ় রঙে।
স্ত্রীর কণ্ঠস্বরের একটা আধুনিক সংস্করণের পুনর্মুদ্রণ হাতে এলো!
দাম্পত্য ; তাজমহলের মতো ধ্রুব হলো;
অথবা তারও অধিক মনো হলো আমার কাছে।
নদীর উত্তরাধুনিক সংস্করণ আপ্লুত করলো হৃদয়।
সভ্যতা এগোবে– আমার বিশ্বাস।

নিজেকে সংস্করণ করলাম পূর্ণ একটি ভোরের মতো।
কেবল মুদ্রিত হবার অপেক্ষায়।

এই লাউরঙা দিনে

এই লাউরঙা দিনে জেগে উঠলো থই থই রোদ ;
কালান্তর ধ্বনি
ইতল-বিতল শব্দবাণ
যুদ্ধ যুদ্ধ বর্ণমালা শেষে দোয়েলের শাম-গান ।

তুমি রাজি ?

এই লাউরঙা দিনে গুঞ্জরিত হলো কথার ঘ্রাণ ;
চোখের মৃদু কাসিদা
দু’বেণী সন্নিহিত ঢেউ
প্রণয়শাসিত মহাকাল ।

তুমি রাজি ?

যুগল দহনে
পুষ্পল রোদের সন্নিকটে যেতে রাজি ?

তুমি রাজি ?

আরো পড়ুন

’৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে শহীদ বরিশাল একে স্কুলের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ’৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানে বরিশাল বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *