শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে পরে আছে গৌরীচন্না বাজারের শহীদ মিনারটি

মইনুল আবেদিন খান, বরগুনা

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজারে ইউনিয়ন ভুমি অফিস সংলগ্ন ভাষা শহীদের স্মরনে নির্মিত শহীদ মিনারটি দ্বির্ঘ কয়েক বছর ধরে ময়লা আবর্জনায় পুর্ন হয়ে আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন ভুমি অফিস কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর নির্মানের সময় শহীদ মিনারটি সেই প্রাচীরের ভিতরে রেখেই প্রাচীর নির্মান করে।

ফলে শহীদ মিনারের যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এখানের শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ্য অর্পন করা ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করতে পারছে না এলাকাবাসী। জানাগেছে, ২০০৩ সালে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ি ও বাসিন্দারা মিলে গৌরীচন্না বাজারে বরগুনা- বাকেরগঞ্জ সড়কের পাশে এই শহীদ বেদীটি নির্মান করেন। পরে ২০১৯ সালের ফুলঝুড়ী ইউনিয়ন ভুমি অফিস কর্তৃপক্ষ তাদের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মানের সময় শহীদ মিনারটি ভিতরে রেখেই সীমানা প্রাচীর নির্মান করেন। সরেজমিনে দেখাগেছে, গৌরীচন্না বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ভুমি অফিসের পূর্বপাশে সড়কের কাছে এই শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়েছিলো। বর্তমানে শহীদ বেদীতে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। ভুমি অফিসের লোকজন অফিসের গেটঘেঁসে বেড়া দেওয়ায় শহীদ মিনারের প্রঙ্গনে কেউ যেতে পারে না। শুধু তাই নয় বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাজার শেষে ময়লা আবর্জনা ফেলে স্তুপ করে রেখেছে শহীদ বেদী। এছাড়াও দ্বির্ঘদিন শহীদ মিনারটি সংস্কার ও রং না করায় বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গৌরীচন্না বাজারে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কোন শহীদ মিনার ছিলো না। তৎকালীন সময়ে আমি, প্রয়াত জসীম উদ্দীন ভাই ও স্থানীয় আরো অনেক যুবকরা মিলে এই বাজারে শহীদ মিনার তৈরীর উদ্যোগ নেই। ২০০৩ সালে এটির নির্মান সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর এই শহীদ বেদীতে ২১ ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, ও যুবকরা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বেদীতেই ফুল দিতো। পরে যখন বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করা হয় তখন আমরা বলেছিলাম বেদীটি বাইরে রেখে ওয়াল নির্মান করতে কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা না শুনে বেদী ভিতরে রেখে ওয়াল নির্মান করেন। স্থানীয় যুবক অপূর্ব মাঝি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী বাঙ্গালীর অস্তিত্বের দিন। ভাষা সৈনিক রফিক, শফিক, জব্বারের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এই দিনে শ্রদ্ধা জানাতে গৌরীচন্না বাজারে সার্বজনীন একটি শহীদ মিনার ছিলো। কিন্তু ভুমি অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীতে এই শহীদ বেদিতে এখন আর শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। দ্রুত মিনারটি সংস্কার করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উপযুক্ত করা হোক এই দাবী জানাই। বরগুনা সদর উপজেলা সহকারী কমিনার (ভুমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি শহীদ মিনারটি কি অবস্থায় রয়েছে। দরকার হলে ২১ ফেব্রুয়ারীর আগে বেদীটি পরিস্কার করে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পনের উপযোগী করা হবে।

আরো পড়ুন

ভোলায় কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় মো.ফাহিম (১২) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *