মাহমুদ ইউসুফ দক্ষিণ এশিয়ার অমর চরিত্র হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী। অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবে সুবিখ্যাত। জন্ম বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ পুত্র। মাতা খুজাস্তা আখতার বানু ছিলেন নামকরা উর্দু সাহিত্যিক। তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার করতেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এখান থেকে বিসিএল ডিগ্রিও অর্জন করেন। ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে আইন পেশায় নিয়োাজিত হন। ১৯২৪-১৯২৭ কলকাতা পৌরসভার নির্বাচিত ডেপুটি মেয়র ছিলেন। ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়লাভের মাধ্যমে তিনি যুক্তবাংলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পাকিস্তান সৃষ্টি ও তার অস্তিত্ব রক্ষার্থে তিনি সর্বাধিক কৃতিত্বের দাবীদার। ১৯৬২ সালে তিনি বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কন্যা বেগম আখতার সোলায়মান ১৯৭১ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন। এ পরিবার পাকিস্তানেই থিতু হন। সোহরাওয়ার্দী দৌহিত্রী ব্যারিস্টার শাহেদা জামিল পাক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় ঢাকাতে তিনি মাতামহের কবর জিয়ারত করেন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে এ কিংবদন্তি নেতার রহস্যজনক ভূমিকা আজও চিন্তনীয়। তাঁর পারিবারিক ভাষা ছিলো উর্দু। তিনি ভাষা সংগ্রামেও উর্দুর ওকালতি করেন। ১৯৫২ সালে খাজা নাজিম উদ্দিন ও সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা ছিলো একই সমান্তরালে। খাজা নাজিম উদ্দিন জমিদার প্রথা উচ্ছেদ করে বাঙালির সর্বাধিক উপকার করেছিলেন, কিন্তু রাষ্ট্রভাষার ক্ষেত্রে সে উদারতা দেখাতে পারেন নি। পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাজ্জাদ জহিরও ঘোষণা দেন: ‘উর্দুই হওয়া উচিত পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীও রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিপক্ষে অবস্থান নেন। ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হায়দারাবাদের জনসভায় তিনি বলেন: “যে আদর্শের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তদনুসারে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’’ (বাংলাদেশের তারিখ, পৃ. ২৬)
তথ্যসূত্র:
১. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশের তারিখ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, তৃতীয় সংস্করণ, জুলাই ২০০৮
২. ড. এবনে গোলাম সামাদ, বায়ান্ন থেকে একাত্তর, ঘোড়ামারা রাজশাহী, একুশে বইমেলা ২০১৭
৩. কঙ্কর সিংহ, ১৯৪৭’র বাংলাবিভাগ অনিবার্য ছিল, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ২০১২
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।