শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা নিতে তৎপর শিক্ষকরা-উপাচার্যকে চাপ

ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য পদোন্নতিতে বিশেষ ছাড় বা রেয়াতের সুবিধা পেয়ে থাকেন শিক্ষকরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এসব সুবিধার কথা বলা থাকলেও ইউজিসির নীতিমালায় বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ নেই। শিক্ষকরা ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি পেতে উপাচার্যকে চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা নিতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ বাগাতে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতারও অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালার নিয়মে বলা হয়েছে, চাকরিকালে কোনো শিক্ষক প্রশাসনিক বা সহশিক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করলে নির্দিষ্ট সময়ের রেয়াত (ছাড়) পাবেন। প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, হাউজ টিউটর ও সহকারী হাউজ টিউটরের মতো পদে দায়িত্ব পালন করলে প্রতি তিন বছরের জন্য এক বছর করে রেয়াত (ছাড়) মিলবে। প্রতি পদের জন্যই আলাদা আলাদা রেয়াত (ছাড়) পাবেন শিক্ষকরা। তবে একটি পদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত এ সুবিধা প্রযোজ্য। এ কারণে এসব পদ এখন শিক্ষকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফলাফল প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ৩.৫ বা তদূর্ধ্ব থাকলে ১টি প্রকাশনা বা ১ বছরের কার্যকাল রেয়াত (ছাড়) পাবেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক একটি প্রকাশনা কম দেখাতে পারবেন অথবা এক বছরের কার্যকাল কম গণনা করার সুবিধা পাবেন। একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই রেয়াত সুবিধাকে ঘিরেই প্রশাসনিক পদ বাগাতে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে একই পদে দায়িত্ব পেতে একাধিক শিক্ষক সক্রিয় তৎপরতা চালান। এতে শিক্ষকদের মধ্যে কোরামিং, লবিং এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিযোগিতা অনেক শিক্ষককে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে ঠেলে দিচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার ও প্রশাসনিক পদ নিশ্চিত করতে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এসব নেতাদের সমর্থন পেতে কতিপয় শিক্ষকদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের নজির রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি বিভাগের ২৪ জন শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে সার্বিক যাচাই-বাছাই করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে। এদিকে দ্রুত পদোন্নতির দাবিতে উপাচার্যের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার পদোন্নতি প্রত্যাশী কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির নীতিমালা অনুসরণের কথা বললেও নিজেদের পদোন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়ার দাবি জানান তারা। একজন শিক্ষক বলেন, ‘‘কোনো শিক্ষক প্রভাষক পদে চারটি ফার্স্টক্লাসের রেয়াত নিলেন আবার ঐ ব্যক্তি সহকারী অধ্যাপক পদে রেয়াত নিতে পারবেন অতিরিক্ত ৩টা আর্টিকেলের জন্য। কেউ যদি হলের হাউজ টিউটর হয়ে থাকেন সেটার জন্য রেয়াত প্রাপ্য হবে তারপর একই ব্যক্তি সহযোগী অধ্যাপক পদে যদি চেয়ারম্যান থাকেন তাহলে সেটার জন্য আবার রেয়াত প্রাপ্য হবেন। সুতরাং একই ব্যক্তি বিভিন্ন পদে বিভিন্ন ধরনের রেয়াত পেতে পারেন তবে কোনো রেয়াত এক পদের বিপরীতে একবারের বেশি না ও ২ বছরের বেশি না। একজন সহকারী অধ্যাপক পিএইচডি করে সাত বছরের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হবেন। আরেকজন কোনো রকমে কয়েকটি প্রকাশনা প্রকাশ করেই রেয়াত সুবিধায় একই সময়ের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন। এতে কার্যত পিএইচডি বা উচ্চতর গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই রেয়াত সুবিধা সংশোধন করা উচিত।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক ও সাবেক রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন, ‘‘একজন ছাত্র উপদেষ্টার মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা। এক মাস দায়িত্ব পালন করলে একজন শিক্ষক এক হাজার টাকা ভাতা পান। এটা কোনো কথা হয়। শিক্ষকের যেটা কাজ না সেটা করালে অবশ্যই তাকে ইনসেনটিভ দিতে হবে। সুবিধা দিতে হবে। কারণ তিনি তার পড়াশোনা, গবেষণা বাদ দিয়ে সেবা দিচ্ছেন, দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাকে সে জন্য তার প্রাপ্য দেওয়া দরকার।’’ ইউজিসির শিক্ষক পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এ আইন করার এখতিয়ার নেই ইউজিসির। তারপরও মন্ত্রণালয় তাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি করেছেন।’’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়টির পদোন্নতি নীতিমালায় যেভাবে রেয়াতের কথা বলা আছে তা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বলে আমার জানা নেই। এ নীতিমালা আমি আসার আগে থেকেই ছিল।’’

আরো পড়ুন

ভোলায় আওয়ামীলীগ অফিসে ঝুলছে ব্যানার,পতাকা

বিশেষ প্রতিবেদক ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার এবং পতাকা টানিয়েছেন আওয়ামীলীগের কর্মীরা।তারা রাতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *