ফাহিম ফিরোজ ॥ পবিত্র ঈদ উল ফিতর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অচল হয়ে পড়ছে বরিশাল নগরীর সড়ক ব্যবস্থা। ঈদের কেনাকাটা, অতিরিক্ত যানবাহন এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
বরিশাল বিভাগীয় শহর হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ নানা প্রয়োজনে এই নগরীতে আসেন। প্রশাসনিক কাজ, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঈদের কেনাকাটার জন্য মানুষের এই বাড়তি চাপও নগরীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর সড়কগুলোর ধারণক্ষমতা যেখানে প্রায় ৫ হাজার যানবাহন, সেখানে বর্তমানে চলাচল করছে ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন। ফলে শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই দিনের অধিকাংশ সময় যানজট লেগেই থাকছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বৈধ সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা সড়কে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে প্রায় অকার্যকর করে তুলেছে।
ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটার ভিড়ে নগরীর সদর রোড, লাইন রোড, চকবাজার, কাটপট্টি, গির্জা মহল্লা, কাকলীর মোড়, বটতলা, চৌমাথা, নতুন বাজার, লঞ্চঘাট, পোর্ট রোড, নথুল্লাবাদ ও রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগছে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।
চকবাজার এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কলেজছাত্রী তানহা আক্তার বলেন, “ঈদের বাজার করতে এসে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যানজটের কারণে। অল্প দূরত্ব যেতে অনেক সময় লাগছে। কখনো কখনো হেঁটে যাওয়াই সহজ মনে হচ্ছে।”
বাজার রোডে কেনাকাটা করতে আসা কাওসার হোসেন বলেন, “ঈদের আগে মানুষের ভিড় বাড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সড়কে এত বেশি ইজিবাইক ও রিকশা চলাচল করছে যে গাড়ি সামনে এগোনোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় একই জায়গায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে।”
বরিশাল সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই নগরীর কোথাও কোনো পরিকল্পনা নেই। যাচ্ছে তাই অবস্থা। ব্যস্ততম সড়ক আটকে মিছিল মিটিং চলে, সড়কের পাশে ভবন নির্মাণ হয় কিন্তু কারো পার্কিং থাকেনা। সবমিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শরফুদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সদর রোড, লাইন রোড, কাটপট্টি রোড, চকবাজার, গির্জা মহল্লা, লঞ্চঘাট, পোর্ট রোড, কাকলীর মোড়, নতুন বাজার ও সাগরদির পুলসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশের অস্থায়ী চৌকি বসানো হয়েছে। এসব এলাকায় অবৈধ হকার উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
যানজট কমাতে নগরীর একটি স্কুল মাঠ অস্থায়ীভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ গাড়ি পার্কিং করে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন। পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠা মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে। নগরীর নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী এলাকাতেও যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ আলাদাভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
নগরবাসীর মতে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ঈদের আগের দিনগুলোতে বরিশাল নগরীর যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।