মইনুল আবেদিন খান, বরগুনা : আসন্ন ইলিশ মৌসুমকে সামনে রেখে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ট্রলার নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রমে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শতাধিক ডগইয়ার্ডে দিন-রাত চলছে কাজ। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ট্রলার সাগরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর, চরদুয়ানী, পদ্মা, জিনতলা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডগইয়ার্ডগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কোথাও নতুন ট্রলারের কাঠামো নির্মাণ, কোথাও আবার পুরোনো ট্রলারের ইঞ্জিন, বডি ও কাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে। এতে স্থানীয়ভাবে শ্রমিকদের জন্যও সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী কর্মসংস্থান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি মাঝারি আকারের নতুন ট্রলার নির্মাণে ডগ ভাড়াসহ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, পুরোনো ট্রলার মেরামতে খরচ হচ্ছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। ব্যয় বেশি হলেও অধিক মাছ আহরণের আশায় মৎস্যজীবীরা এ বিনিয়োগ করছেন।
এদিকে, উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ট্রলার, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ট্রলারটির দৈর্ঘ্য ৬২ ফুট এবং প্রস্থ ২১ ফুট। এতে বসানো হচ্ছে ৪০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী ইঞ্জিন, যা উপকূলীয় অঞ্চলে বিরল।
উদ্যোক্তা আবুল হোসেন ফরাজী জানান, ট্রলারটি সাগরের গভীরে নিরাপদে মাছ আহরণে সক্ষম হবে এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে পারবে। তিনি বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ট্রলারটি তৈরি করছি, যাতে ঝুঁকি কমে এবং উৎপাদন বাড়ে।” তিনি আশা করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ট্রলারটি পানিতে নামানো সম্ভব হবে এবং ইলিশ মৌসুমেই এটি সাগরে যাবে।
ট্রলার নির্মাণে নিয়োজিত কারিগর মো. এমাদুল বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় অনেক ট্রলার তৈরি করলেও এত বড় আকারের ট্রলার এই প্রথম নির্মাণ করছেন তিনি। বিশাল এ ট্রলারটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন বলেও জানান তিনি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলায় বর্তমানে শতাধিক ডগইয়ার্ডে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ট্রলারের কাজ চলছে। এর মধ্যে বৃহৎ ও আধুনিক ট্রলার নির্মাণ একটি ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, “আশা করছি, আসন্ন মৌসুমে সাগরে ইলিশের ভালো আবাদ হবে এবং মৎস্যজীবীরা লাভবান হবেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে এবারের ইলিশ মৌসুমে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। এতে উপকূলীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।