বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

আগৈলঝাড়ায় ৫ লিটার পেট্রোল পেতে ২৬ কিলোমিটার পথ পারি

মো. ফারুক হোসেন, আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ

ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের জেনারেটর নিয়ে ৫ লিটার পেট্রোল পেতে ২৬ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে পাম্পে এসেছে এক ব্যক্তি। ৫শত টাকার ভ্যান গাড়ীর ভাড়া গুনতে হয়েছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে। জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বিদ্যুৎতের লোডশোডিং থাকার সময় রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখার জন্য জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল প্রয়োজন। দেশে জ্বালানি সংকটের পূর্বে স্থানীয় বাজার থেকে পেট্রোল ক্রয় করে চাহিদা পূরন করে আসছিল তারা। স্থানীয় বাজারে পেট্রাল না পাওয়ায় বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার পেট্রোলের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্পের ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা’র অফিসে এসে পেট্রোলের জন্য দাবী জানান।

ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা সরেজমিন পরিদর্শন করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাগজপত্র ও জেনারেটর নিয়ে তার অফিসে আসতে বলেন। ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ ভ্যানে করে জেনারেটর নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসলে ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা সিল স্বাক্ষরসহ ৫ লিটার পেট্রোল প্রদানের জন্য একটি স্লিপ দিয়ে তাদের আগৈলঝাড়া ফিলিং ষ্টেশনে পাঠান। ওই সময় ফিলিং ষ্টোশনে পেট্রোল না থাকায় গতকাল দুপুর থেকে অপেক্ষা করে ৫ লিটার পেট্রোল ৬শত ৮০টা দিয়ে ক্রয় করে বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ফিরে যান।এতে সাতলা গ্রামের ভ্যান চালক রহিম সরদারকে ৫শত টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। আগৈলঝাড়া ফিলিং ষ্টেশনে ১শত টাকার উপরে কাউকে তেল দিচ্ছে না।

পাম্প থেকে চাহিদামত তেল না পেয়ে সেচ মৌসুমে প্রতিদিনই কৃষকরা সেচ পাম্পের তেলের স্লিপের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার ও ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা’র দপ্তরে ভীর করছেন। এব্যাপারে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার বলেন, পেট্রোলের জন্য ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা’র কাছে গেলে তিনি সরেজমিন এসে কাগজপত্র ও জেনারেটর নিয়ে উপজেলা সদরে আসতে বলেন। সে ৫ লিটার পেট্রোলের স্লিপ দিলে পেট্রোল নিয়ে ফিরে আসি। পরবতীতে পেট্রোল’র প্রয়োজন হলে পুনরায় জেনারেটর নিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক ইউপি সদস্য শামীম মিয়া নিক্সন জানান, বিদ্যুৎতের লোডলোডিং’র কারনে স্থানীয় বাজার থেকে পেট্রোল ক্রয় করতাম। সংকটের কারনে আসা-যাওয়ায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে ভ্যানে করে জেনারেটর নিয়ে ৫ লিটার পেট্রোল পেতে ৫শত টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়েছে। এভাবে হলে আমরা কিভাবে সেবামুলক প্রতিষ্ঠান চালাবো?

এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তেলের জন্য সরকার কর্তক নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা বলেন, পেট্রোল একটি জ্বালানি পদার্থ, যার কারনে সরকারী নিদের্শ রয়েছে খোলা কোন পাত্রে বহন করা যাবে না। যার কারনে জেনারেটর নিয়ে আসতে বলা হয়েছে এবং পেট্রোল শেষ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য পুনরায় জেনারেটর নিয়ে পেট্রোল নিতে আসতে বলা হয়েছে।

আরো পড়ুন

বরিশালের চরকাউয়ায় স্বনির্ভর খাল পরিদর্শনে সিটি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত ঐতিহাসিক স্বনির্ভর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *