রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬

আকাশচুম্বী ইলিশের দাম

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে ইলিশের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরন কেন্দ্র আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারী বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারী সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা খুচরা বাজারগুলোর। বাজারে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং আকাশ ছোয়া দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন ক্রেতারা। তবে তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারা, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দাম অনেকটা বেড়েছে জানিয়েছে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার সকালে মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। হাতেগোনা দু,চারটি মাছের দেখা মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মন দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা মন দরে। দেশের বৃহৎ পাইকারী এ বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে। শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজার সহ জেলার সকল বাজারে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এসব বাজারেও দেখা মিলছেনা বড় সাইজের ইলিশের। হাতে গোনা দু’ চারটি পাওয়া গেলেও দাম ভোক্তারে নাগালের বাইরে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা কেজি দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। দুষ্প্রাপ্ততার কারনে বিগত বছরগুলোর সকল রেকর্ড ভেঙে সবেচেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। তাই ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়ার মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা নয়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পহেলা বৈশাখের পরের দিন বাড়িতে মেয়ে জামাইয়ের স্বজনরা বেড়াতে আসবেন। তাই ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। বাজারে ১ কেজি ওজনের একটি মাছও পাইনি। হাতে গোনা দুই থেকে তিনজন মাছ বিক্রেতার কাছে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের কিছু ইলিশ থাকলেও দাম অনেক চড়া। ২০০০ টাকা করে চাচ্ছে। এতো দামে ইলিশে ক্রয়ের ক্ষমতা আসলে আমাদের নেই। অপর ক্রেতা কবির হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখের দিন আমার ছেলে মেয়েরা পান্তা ইলিশ খাওয়ার আবদারের কারনে বাজারে এসেছিলাম। বাজারে ইলিশের সংখ্যা খুবই কম এবং দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। যার কারনে না কিনেই ফিরে যাচ্ছি।
আলীপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের মৃধা ফিসের স্বত্ত্বাধিকারী সালাউদ্দিন মৃধা বলেন, মাছের দাম বাড়ানো বা কমানো আমাদের হাতে নেই। এখানে নিলামের মাধ্যমে সকল ধরনের মাছ কেনা বেচা হয়। ডিজেলের ঘাটতির কারনে বেশির জেলে সমুদ্রে যেতে না পারায় এখন ইলিশের ব্যাপক সংকট চলছে। এছাড়া সাগর থেকে যে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরছে তার মধ্যে বেশির ভাগই ইলিশ শূন্য৷ বাজারে ইলিশের পরিমান খুব কম হওয়ায় পাইকারী ব্যবসায়ীরা নিলামের মাধ্যমে বেশি দামে মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, ইলিশের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং করা হবে। এছাড়া কোন পাইকারী ব্যবসায়ী তার ক্রয়ের চেয়ে খুচরা বাজারে অধিক দামে ইলিশ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

আরো পড়ুন

বোরহানউদ্দিনে অলিগলিতে ভুয়া ডেন্টিস্টদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

‎রিয়াজ ফরাজী, বোরহানউদ্দিনঃ ‎ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একাধিক ডেন্টাল কেয়ার সেন্টারে চলছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *