রিয়াজ ফরাজী, বোরহানউদ্দিনঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একাধিক ডেন্টাল কেয়ার সেন্টারে চলছে হাতুড়ে চিকিৎসা, আর তাতেই প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই কোনো ধরনের বৈধ ডিগ্রি বা নিবন্ধন ছাড়াই দাঁতের চিকিৎসার নামে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে রোগীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন মারাত্মকভাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ডেন্টাল কেয়ার গড়ে উঠেছে। এর বাইরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এলাকাসহ মনিরাম, বোরহানগঞ্জ, রানীগঞ্জ, মজমবাজার ও দরুনেরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে এসব ডেন্টাল কেয়ার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে ‘ডেন্টিস্ট’, ‘ডাক্তার’ কিংবা ‘ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট’ লেখা থাকলেও বাস্তবে তাদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা সরকারি অনুমোদন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুঞ্জেরহাট বাজারের তজুমদ্দিন রোড এলাকায় নাইম ডেন্টাল, শিকদার ডেন্টাল, লাবনী ডেন্টাল, আফরা ডেন্টাল, মুনতাহা ডেন্টালসহ একাধিক ডেন্টাল কেয়ার চালু রয়েছে। এছাড়া মনিরাম বাজারে রিহান ডেন্টাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ওহী ডেন্টাল ও মুক্তি ডেন্টাল নামেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র একটি ডেন্টাল কেয়ারে বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন বলে জানা গেছে, বাকিগুলো পরিচালিত হচ্ছে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ বা স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে।
শিকদার ডেন্টালের মালিক জসিম উদ্দিন দাবি করেন, তিনি সরকারি বাংলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং পরে ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল টেকনোলজি কোর্স করেছেন। এছাড়া ঢাকায় একজন ডেন্টিস্টের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এসব ভুয়া ডেন্টিস্টরা প্রকাশ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীদের দাঁত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ এসব ডেন্টাল কেয়ারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, কোনো অদৃশ্য কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকার বাইরে থাকা অবৈধ ডেন্টাল কেয়ারগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে ভুয়া ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সচেতন মহল মনে করছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ ডেন্টাল কেয়ার বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।