নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে বাড়ির সীমানার যাতায়াতের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও লাঠিসোটার পিটুনিতে বাবা ও তাঁর দুই ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১৮ মে সোমবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নং গাবখান গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণকান্ত হাওলাদারের ছেলে কানাই হাওলাদার (৬০), এবং তাঁর দুই ছেলে কমল হাওলাদার ও কিশোর হাওলাদার। এদের মধ্যে কানাই হাওলাদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুইজনকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র: স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গাবখান গ্রামে কানাই হাওলাদার ও প্রতিপক্ষ সুজনদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির ভেতরের সাধারণ যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে এই হাঁটাচলার পথ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সুজনসহ চার-পাঁচজন লাঠিসোটা ও ধারালো রামদা নিয়ে কানাই হাওলাদারের পরিবারের ওপর আচমকা চড়াও হয়।
শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম কানাই হাওলাদার বলেন, “সকালে আমার স্ত্রী যখন পথ নিয়ে কথা বলছিল, তখন ওরা এসে বলে—’তুই আমার মায়েরে অপমান করছিস কেন?’ এই কথা বলেই কোনো কিছু বোঝার আগেই ওরা আমার দুই ছেলে কমল ও কিশোরের ওপর হামলা চালায়। আমি ছেলেদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ওরা আমাকে লক্ষ্য করে ধারালো রামদা দিয়ে কোপ মারে। হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলেও রামদার কোপ সরাসরি আমার মাথায় লাগে। ওরা আমাদের মেরেই ফেলতে চেয়েছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবীণ কানাই হাওলাদারের মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার শিকার হয়ে তারা যখন হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যস্ত, সেই সুযোগে প্রতিপক্ষের প্রভাবে পুলিশ উল্টো তাদের এক নারী স্বজনকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।
হাসপাতালে কানাই হাওলাদারের পাশে থাকা স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ওপর হামলা হলো, আমরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছি—আর পুলিশ আমাদের বোনকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন থানা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা দিলে নাকি মামলা হালকা করা হবে এবং বোনকে আদালতে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইবো?”
এ বিষয়ে জানতে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, গাবখান গ্রামের মারামারির বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।