বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

নেছারাবাদে ‘স্বরূপকাঠি উপজেলা’ নামে পৃথক নতুন উপজেলা গঠনের দাবি

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের অবহেলিত ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘স্বরূপকাঠি উপজেলা’ নামে পৃথক নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণ। গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে পশ্চিম পাড়ের অবহেলিত ৬টি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে মিয়ারহাট বন্দর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাকক্ষে  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নেছারাবাদ উপজেলাটি বর্তমানে একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। তবে প্রমত্তা সন্ধ্যা নদী উপজেলাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। পূর্ব পাড়ে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়ন অবস্থিত এবং পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, এই ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৯ জন মানুষ বসবাস করেন, যা নেছারাবাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলার মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।
​বক্তারা অভিযোগ করেন, নেছারাবাদ উপজেলার মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৮০ ভাগই (৮০%) আসে পশ্চিম পাড় থেকে। ১৯৬১ সালে স্থাপিত পিরোজপুর জেলার একমাত্র বিসিক শিল্পনগরীসহ এখানে বর্তমানে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত নারকেলের ছোবড়া, পাপোশ, ক্রিকেট ব্যাট, কাঠের ফার্নিচারসহ বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এত বিপুল রাজস্ব অবদান এবং জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দারা।
উত্তাল সন্ধ্যা নদী পার হয়ে জেলা বা উপজেলার জরুরি সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই বিশাল জনসংখ্যার চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতাল নেই, ঘনবসতি ও শিল্পকারখানা থাকা সত্ত্বেও নেই কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে অগ্নিকাণ্ডে প্রতিনিয়ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোনো থানা বা পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের অভাবে ২০০৯ সালের পর থেকে বন্ধ রয়েছে এখানকার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জটিও।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়দের পক্ষে মো. জিয়াউল হক বলেন, “অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে আমরা উপজেলার মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। বর্তমান সময়ের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যকে যুগোপযোগী করতে এবং ১ লক্ষ ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণের দাবি রক্ষার্থে নেছারাবাদ উপজেলার পশ্চিম পাড়ে ‘স্বরূপকাঠি উপজেলা’ নামে পৃথক নতুন উপজেলা গঠন এখন সময়ের দাবি।”
ভুক্তভোগী জনসাধারণ এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে এবং অবহেলিত এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পিরোজপুর ২ আসনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি  এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আরো পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর কলাপাড়া মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি বিদ্যালয়

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া  পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর ‘মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *