বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।
চলতি অর্থবছরে বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের জন্য ৩৬৯ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। বাজারদরের তুলনায় এ মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ব্যাপক আগ্রহ ছিল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে বাবুগঞ্জে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। এর মধ্য থেকে সরকারি ক্রয় কর্মসূচির আওতায় ৩৬৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে কৃষকদের নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরাই ধান সরবরাহের সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে উপজেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের ভেতর ও আশপাশে বিপুল পরিমাণ ধান বস্তাবন্দি অবস্থায় রোদে শুকানো হচ্ছে। শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান বস্তাবন্দি ও পরিবহনের কাজে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ধান একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা গুদামে ধান বিক্রি করতে চাইলেও নানা জটিলতা ও প্রভাবশালী মহলের কারণে সুযোগ পাননি। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে কার্ডধারীদের নাম ব্যবহার করে অন্যরা ধান সরবরাহ করছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কৃষক তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এ কারণে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, “এ পর্যন্ত ৯ টন ধান সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসারেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।