শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

সুমনের ভালোবাসার টানে এবার বরিশালে মালয়েশিয়ান তরুণী নূর হিদায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রেমের কোনো সীমানা নেই, কাঁটাতার নেই। সে কথাই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন মালয়েশিয়ান তরুণী নূর হিদায়া। ভালোবাসার টানে সুদূর মালয়েশিয়া থেকে তিনি ছুটে এসেছেন বরিশালের গৌরনদীতে। উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী যুবক মো. সোহেল খলিফা ওরফে (সুমন) এর সঙ্গে তার সেই ভালোবাসার সম্পর্ককে এবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দিতে সম্পন্ন হলো বিয়ের জমকালো অনুষ্ঠান।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বর সোহেলের গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সোহেলের স্বজনরা জানিয়েছে, নাঠৈ গ্রামের মৃত আব্দুল করিম খলিফার ছেলে মো. সোহেল খলিফা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন এবং সেখানে ব্যবসা করছেন।

মালয়েশিয়ায় থাকাকালীনই স্থানীয় তরুণী নূর হিদায়ার সাথে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং পরে তা গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দেড় বছর আগে তারা মালয়েশিয়াতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বর মো. সোহেল খলিফা বলেন, ​’নূর হিদায়া আমাকে ও আমার দেশকে ভীষণ ভালোবাসে। মালয়েশিয়ায় আমাদের বিয়ে হলেও ইচ্ছে ছিল দেশের মাটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার। নূর আমার পরিবারের সাথে খুব দ্রুত মিশে গেছে। নিজে উদ্যোগী হয়ে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত শিখেছে।’

বিদেশি পুত্রবধূ আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নূর হিদায়াকে এক নজর দেখতে সোহেলের বাড়িতে ভিড় জমান উৎসুক এলাকাবাসী। বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা স্থানীয় মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ​’আমাদের গ্রামে এর আগে কখনো বিদেশি বউ আসেনি। খবর শুনেই কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি।’

​ষাটোর্ধ্ব মোসাম্মৎ আমেনা বেগম বলেন, ‘বিদেশি মেয়ে হলেও আমাদের বাঙালি সাজে তাকে সুন্দর লাগছে। দোয়া করি তারা সুখে থাকুক।’ এদিকে নূর হিদায়া মালয়েশিয়ান ভাষার পাশাপাশি অল্প অল্প বাংলা বলতে পারেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের আসরে স্পষ্ট কণ্ঠে গেয়ে শোনান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

আরো পড়ুন

বরিশালে ৩৩ বছরেও হয়নি চিড়িয়াখানা নির্মাণ, বিনোদন সংকটে শিশু-কিশোর

ফাহিম ফিরোজ : বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগীয় শহর বরিশালে এখনো গড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *