নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর বাহাদুরপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারধর, শ্লীলতাহানি, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদী সাফিয়া বেগম (মুক্তা)। ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, চর বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত হাচেন আলী শিকদারের মেয়ে সাফিয়া বেগম (মুক্তা) বরিশালের আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের সঙ্গে একই এলাকার মো. আব্দুল সালাম, মো. আবুল বাশার, মো. আবুল কালাম আজাদ, মোসা. আখিনুর বেগম, মো. রাসেদ, মোসা. রাশিদা বেগমসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেল প্রায় ৩টার দিকে অভিযুক্তদের একটি গরু ও বাছুর বাদীপক্ষের খোলা পাকঘরে ঢুকে রান্নার চুলা ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় বাদীর মা ফাতেমা বেগম ও বোন সেলিনা বেগম প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বাদীর অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা লাঠি, শাবল, দা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মা ও বোন গুরুতর আহত হন।
একপর্যায়ে নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণের চেইন, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বাদীর বোনের গলা থেকে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, আলমারি ভেঙে নগদ ৪৮ হাজার টাকা এবং একটি ব্যাগ থেকে ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর সাফিয়া বেগম আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তভার পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই অরবিন্দ বিশ্বাস মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তিনি তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং মামলার বিষয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রমের এক পর্যায়ে গত ৩ মে আদালত তিন আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাদী সাফিয়া বেগম (মুক্তা) বলেন, “আমার মা ও বোনকে মারধর করা হয়েছে, শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমাদের ঘরে হামলা চালিয়ে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। তারপরও আমরা ন্যায়বিচার পেলাম না। আমরা আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবো এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ এখনো তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাদীপক্ষের আপিলের ঘোষণার কারণে মামলাটির পরবর্তী আইনি অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং তারা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন যতক্ষণ না আদালত অন্য কোনো রায় প্রদান করেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।