বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬

নেছারাবাদে শিক্ষা প্রকল্পে নয়ছয়; প্রশ্নবিদ্ধ এলজিইডির প্রত্যয়ন

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
‎নেছারাবাদ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ প্রকল্পের প্রায় ১৫ লাখ টাকার সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকার বিপরীতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নামমাত্র সংস্কারকাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি একটি বিদ্যালয়ে কোনো কাজ শুরু না করেই বিল তুলে নেওয়ার প্রস্তুতির অভিযোগও উঠেছে।
‎স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কয়েকটি বিদ্যালয়ে সামান্য প্লাস্টার, রং ও চুনকাম এবং সীমিতসংখ্যক বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহ করেই প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দোকান থেকে নির্মাণসামগ্রীর রসিদ সংগ্রহ করে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে অর্থ উত্তোলনের উদ্যোগ নেন।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ৭১ নম্বর বিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকার বিপরীতে ছয় জোড়া বেঞ্চ, একটি সিলিং ফ্যান ও আংশিক রংয়ের কাজ হয়েছে। জগন্নাথকাঠি, বাটনতলা ও ২১ নম্বর স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সীমিত পরিসরের প্লাস্টার ও রংয়ের কাজ চোখে পড়ে। অন্যদিকে, ১৩৯ নম্বর দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
‎তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা দাবি করেছেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরোনো ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবনে বরাদ্দের অর্থে কাজ করা হয়েছে এবং বিল জমা দেওয়া হয়েছে।
‎উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজের মান যাচাই করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে, শুধু একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রকৌশলী যে সকল বিদ্যালয়ের কাজের প্রত্যয়ন দিয়েছেন তাদের বিল প্রদান করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী প্রত্যায়ন দিলে তার বিলও পরিশোধ করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের তদারকি করে উপজেলা শিক্ষা অফিস। কাজের প্রত্যয়নের বিষয়ে আমি অবগত নই।
‎এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

বরিশালে নাগরিক টেলিভিশনের দায়িত্ত্বে সাংবাদিক শাহীন হাসান, বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের পেশাদার সাংবাদিক শাহীন হাসান বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নাগরিক টিভির বরিশাল প্রতিনিধি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *