মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ মনপুরা প্রতিনিধি ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের এমএলএসএস পদ থেকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মো. সেলিম (৪০)। মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সেলিম উপজেলার দাসের হাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাসেমের ছেলে। তিনি দাবি করেন, ১ আগস্ট ২০০২ সালে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে এমএলএসএস পদে চাকরিতে যোগদান করেন। স্মারক নং- ম.ম.ক/২০০২(৯)। এর ধারাবাহিকতায় ১ নভেম্বর ২০০৪ সালে তার প্রথম এমপিও আদেশ জারি হয়। ইনডেক্স নং- ৩০০৯০৪৫। এরপর থেকে তিনি তিনটি টাইমস্কেল (উচ্চতর গ্রেড) পান। প্রতিটি রেজুলেশন ও ১ আগস্ট ২০২২-এর এমপিওতে তার এমএলএসএস পদ দেখানো হয়।
১২ ডিসেম্বর ২০২২ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তাকে নৈশ প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয় ১০ জুলাই ২০২৩ সালে। সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি খোরপোষ পাবেন। কিন্তু সাময়িক থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের মধ্যবর্তী প্রায় সাত মাসে কোনো খোরপোষ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সেলিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম অভিযোগ করেন, তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বিভিন্ন সময় তাকে কলেজের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতে বলতেন। সর্বশেষ ইংরেজি প্রভাষক এম এ বাশারকে হেনস্তা করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। তিনি রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং বিভিন্ন কারণে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। এ সংক্রান্ত একটি পুলিশ প্রতিবেদনও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন।
সেলিম আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে কলেজে গেলে অফিস সহকারী আবু বকর সিদ্দিক তাকে বলেন, “অধ্যক্ষ স্যার তোমাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন।” পরে অধ্যক্ষ কলেজে এলে তার কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান সেলিম। এ সময় অধ্যক্ষ তাকে কলেজে আসতে বারণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
সেলিমের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতির পর তার পদে শাহজাহান মিয়ার এক ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সলিম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোথাও বিচার পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছি।’ চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে বর্তমান ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সেলিম তার চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, “সেলিম নাইটগার্ড হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেছিল। সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। নিয়ম মেনেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমি এমএলএসএস সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি, নাইটগার্ড সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ঐ পদে নিয়োগ প্রদান করেছি।”
কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, ‘একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছেলেটাকে (মো. সেলিম, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ঐ পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঐ পদ খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় উল্লেখিত পদে ফিরে আসার কোনো উপায় আছে কি না, তা ভুক্তভোগী ব্যক্তিই বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে সাবেক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।