মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর : দিনের বেলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক মৎস্যবন্দর। আর রাত নামলেই যেন রূপ নেয় আলোর শহরে। পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরকে ঘিরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
সারাদিন নদীতে থাকে মাছ ধরার ট্রলারের ব্যস্ত আনাগোনা, মাছ খালাস, বেচাকেনা এবং জেলে-ব্যবসায়ীদের কর্মচাঞ্চল্য। তবে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। নদীর দুই তীরে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা শত শত ট্রলারে জ্বলে ওঠে লাল, নীল, সবুজ ও সাদা রঙের অসংখ্য বাতি। শান্ত নদীর জলে সেই আলোর প্রতিফলন তৈরি করে অপরূপ সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন নদীর বুকেই ভেসে উঠেছে একটি আলোকসজ্জিত শহর।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের মহিপুর খাপড়াভাঙ্গা সেতুতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। কেউ উপভোগ করেন নদীর নৈশসৌন্দর্য, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ফলে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
ঢাকার গাজীপুর থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আশিকুর রহমান বলেন, “সমুদ্রসৈকত ঘুরে শুধু এই আলোর দৃশ্য দেখতেই এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখে মনে হয়েছে, বাস্তবে এটি ছবির চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর।”
মিরপুর থেকে আসা পর্যটক সিমি বলেন, “দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল নদীর বুকে আলোকসজ্জিত একটি শহর ভাসছে। কাছে এসে দেখি, অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলারের রঙিন আলোর ঝলকানি। সত্যিই এটি এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”
স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমীন অনিক বলেন, “আগে এখানে শুধু ট্রলার নোঙর করত। এখন সন্ধ্যা হলেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই দৃশ্য দেখতে আসে। ধীরে ধীরে জায়গাটি একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে।”
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “উপকূলের জেলেদের জীবনসংগ্রাম, শান্ত নদীর জলরাশি আর হাজারো আলোর ঝলকানি মিলিয়ে প্রতিটি সন্ধ্যায় খাপড়াভাঙ্গা নদী এক অপার্থিব সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি উপকূলীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।”
স্থানীয়দের মতে, নদীতীরের সৌন্দর্যবর্ধন, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ দর্শনপয়েন্ট, পার্কিং সুবিধা এবং পরিকল্পিত আলোকসজ্জার উন্নয়ন করা হলে খাপড়াভাঙ্গা নদী শুধু একটি মৎস্যবন্দরের পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় সন্ধ্যাকালীন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
দিনে কর্মচাঞ্চল্যে মুখর আর রাতে রঙিন আলোর মোহনায় সেজে ওঠা খাপড়াভাঙ্গা নদী ইতিমধ্যে কুয়াকাটার প্রচলিত সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি নতুন এক পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রচারণা থাকলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নদীকেন্দ্রিক পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।