রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী আজ শুধুই স্মৃতি

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:

সমুদ্রগর্ভে বিলীন ফয়েজ মিয়ার বিখ্যাত নারিকেল বাগান ও স্মৃতিবিজড়িত ভবন, ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি

একসময় সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক ছিল প্রয়াত ফয়েজ মিয়ার বিখ্যাত নারিকেল বাগান। আর সেই বাগানের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিল কুয়াকাটা ফার্মস অ্যান্ড ফার্মস লিমিটেডের অফিস-কাম-আবাসিক ভবন। উপকূলের প্রকৃতি, পর্যটন ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই ভবনটি ছিল কুয়াকাটার এক নীরব সাক্ষী।

সারি সারি নারিকেল গাছ, সাগরের লোনা বাতাস, পাখির কূজন আর সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে স্থানটি ছিল দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি অনেকে এখানে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতেন। অসংখ্য মানুষের শৈশব, কৈশোর ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই স্থান।

কিন্তু উপকূলীয় ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রের অগ্রাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় ফয়েজ মিয়ার সেই ঐতিহ্যবাহী নারিকেল বাগান। এরপর কয়েক বছর আগে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের গর্ভে বিলীন হয়ে যায় এই স্মৃতিবিজড়িত ভবনটিও। আজ সেখানে আর কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব নেই; আছে শুধু স্মৃতি, কিছু পুরোনো ছবি এবং ইতিহাসের নীরব দীর্ঘশ্বাস।

কুয়াকাটার বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, “কুয়াকাটার ইতিহাস শুধু সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে নয়; এখানকার প্রতিটি পুরোনো স্থাপনা, বাগান ও জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান এবং এই ভবনটি ছিল সেই ইতিহাসের মূল্যবান অংশ। কয়েক বছর আগে এটি সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাওয়া শুধু একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়, কুয়াকাটার ইতিহাসেরও অপূরণীয় ক্ষতি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হারিয়ে না যায়, সেজন্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, কুয়াকাটার পর্যটনের শুরুর দিকের ইতিহাসে এই নারিকেল বাগান ছিল একটি পরিচিত নাম। সে সময় অনেক পর্যটক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এখানকার ছবি তুলে নিয়ে যেতেন। আজ নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না, কুয়াকাটার বুকে এমন একটি ঐতিহাসিক স্থান একসময় ছিল।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কুয়াকাটা শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য নয়; এটি উপকূলীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। তাই অবশিষ্ট ঐতিহাসিক স্থাপনা, পুরোনো নিদর্শন এবং স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ইতিহাস একবার হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে আসে না। তাই কুয়াকাটার অতীতকে বাঁচিয়ে রাখতে আজই উদ্যোগী হতে হবে। কারণ একটি স্থাপনা হারিয়ে গেলে শুধু ইট-পাথর হারায় না, হারিয়ে যায় একটি জনপদের স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের অমূল্য অধ্যায়।

আরো পড়ুন

ভান্ডারিয়ায় দুই জামায়াত নেতার ওপর যুবদলের হামলা, নিন্দা  ও প্রতিবাদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় দুই জামায়াত নেতার ওপর যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *