নিজস্ব প্রতিবেদক : আগস্টের শুরু থেকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক সঞ্চয়পত্র গ্রাহক তাদের মুনাফার অর্থ না পেয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন। বিষয়টি নিয়ে সঞ্চয় অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নানামুখী বক্তব্যে গ্রাহকগণ আরো বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই বলে ক্ষুব্ধ সরকারি সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগকারীগণ।
বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে লক্ষাধিক গ্রাহক বিপুল অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কিনেছেন বিভিন্ন সময়ে। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক মুনাফার পরিবার সঞ্চয়পত্র, ত্রৈমাসিক মুনাফার বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ছাড়াও পেনসনার্স স্কিমের সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসেবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার-ইএফটি পদ্ধতিতে এক মাস থেকে তিন মাস অন্তর মুনাফার অর্থ জমা হবে।
গ্রাহক যে তারিখে এসব সঞ্চয়পত্র কিনেছেন,একমাস বা ৩ মাস পরে ঐ তারিখের পরের দিন তার ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ এবং সঞ্চয়পত্র সমূহের মেয়াদ পূর্তির পরের দিন বিনিয়োগকৃত সমুদয় অর্থ তার ব্যাংক হিসেবে জমা হবার কথা। কিন্তু গত ১ আগস্টের পর থেকে কোন সঞ্চয়পত্র গ্রাহকই তাদের মুনাফার অর্থ এবং এসময়ে যেসব গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তি হয়েছে, তাদের কারোর ব্যাংক হিসেবেই মুনাফা সহ আসল টাকা জমা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীগণ কখনো সঞ্চয় অধিদপ্তর অফিসে, আবার কখনো ব্যাংক সমূহে দৌড়ঝাঁপ করেও কোন সুরাহা করতে পারেন নি। কোন কোন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কারণে গ্রাহকের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ জমা হচ্ছে না।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের দায়িত্বশীলদের কোন বক্তব্য না পাওয়া গেলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি কারিগরি সমস্যা। খুব শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে এ সমস্যার কারণে লাখ লাখ মানুষ যে অমানবিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তা নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এমনকি বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক সরকারি সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকের মুনাফার অর্থ না পাবার বিষয়ে কোন কোন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভিন্নভাবেও উপস্থাপন করেছেন গত কয়েকদিন। তাদের ভাষায়, ‘সরকারি তহবিলে টাকার সংকটের কারণেই সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মুনাফার অর্থ প্রদান করা হচ্ছে না’।
তবে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের বরিশাল ও ঢাকার সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে, সেখান থেকে জানান হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে গোলযোগের কারণেই এমনটা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান সঞ্চয়পত্রের দায়িত্বশীল মহল। তাদের মতে, রাতের মধ্যেই বেশিরভাগ গ্রাহকের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ জমা হয়ে যাবে।
যাদের এটিএম কার্ড রয়েছে, তারা রাতের যেকোন সময়ই মুনাফার টাকা এটিএম বুথ থেকে তুলতে পারবেন। অন্যথায় রোববার চেকের মাধ্যমেও ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ তোলা যাবে বলেও জানান ঐসব কর্মকর্তাগণ। তবে বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন বিভিন্ন ব্যাংক কাউন্টারে অপেক্ষমান সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের অনেক ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও কানে ভেসে এসেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।