মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

গৌরনদীতে ভুল ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে ফার্মেসি সাময়িক বন্ধ; প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল না থাকায় ক্ষোভ

সোলায়মান তুহিন, গৌরনদী (বরিশাল):

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাজারে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল না থাকা ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে মা মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বাজার কমিটি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের লক্ষণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তার শিশু সন্তান টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় সোমবার (২৯ জুন) চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইনজেকশন সংগ্রহ করতে তিনি বাটাজোর বাজারের মা মেডিকেল হলে যান। তার অভিযোগ, চিকিৎসক যে ইনজেকশনটি প্রেসক্রিপশনে লিখেছিলেন, ফার্মেসি থেকে তার পরিবর্তে অন্য একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটি তিনি প্রেসক্রিপশনে লেখেননি। এরপর আমি পুনরায় ফার্মেসিতে গেলে স্বত্বাধিকারী রিপন ভুলবশত অন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।”

সিরাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের পরিবর্তে অন্য ওষুধ দেওয়ায় তার সন্তানের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং শিশুটি ফুলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বাজার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বাটাজোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বাবুল বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। প্রাথমিকভাবে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে মা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন বলেন, “চিকিৎসক ইসোমিপ্রাজল গ্রুপের ইসোনিক্স ২০ মিলিগ্রাম লিখেছিলেন। ভুলবশত ৪০ মিলিগ্রাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

পূর্বেও ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কোনো ভুল ওষুধ দিইনি। চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সাবান লিখেছিলেন। সেটি আমার কাছে না থাকায় একই ধরনের অন্য একটি সাবান দিয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ আপাতত ফার্মেসিটি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলছি।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রতিটি ফার্মেসির নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আরো পড়ুন

আইনজীবী নাথুরাম ভৌমিক না ফেরার দেশে চলে গেছেন

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া  পটুয়াখালী  জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, কলাপাড়া আইনজীবী সমিতির বারবার নির্বাচিত সাবেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *