মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

লোডশেডিংয়ে কমেছে বরফ উৎপাদন, বিপাকে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র বরফসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কমে গেছে বরফের উৎপাদন। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় বরফের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ১৫০ টাকার একটি বরফের ক্যান এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এরপরও প্রয়োজন অনুযায়ী বরফ পাওয়া যাচ্ছে না।
বরফের সংকটে ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে যেতে পারছেন না শত শত মাছ ধরার ট্রলার। গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক ট্রলার ঘাটে নোঙর করে থাকায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ট্রলার মালিকেরা বলছেন, প্রতিদিন ঘাটে বসে থাকায় তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অন্তত ৩৬টি বরফকল রয়েছে। বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে এসব কারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো বরফকল দিনে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ক্যান বরফ উৎপাদন করতে পারছে। আবার কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত উৎপাদন করছে। কারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদনক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ উৎপাদিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে থাকা বাঁশখালীর এফবি সোনাবানু ট্রলারের মাঝি সায়েদ মিয়া বলেন, “সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে আমাদের অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ ক্যান বরফ লাগে। আমরা পাঁচ দিন ধরে বসে আছি, কিন্তু এক ক্যান বরফও পাইনি। কয়েকটি বরফকলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। কবে চাহিদা অনুযায়ী বরফ পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই। আমরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই।”
আলীপুর মৎস্য বন্দরে নোঙর করা এফবি নুরজাহান ট্রলারের মালিক মিজান হোসেন বলেন, “সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বরফ সবচেয়ে জরুরি উপকরণগুলোর একটি। আমরা এক সপ্তাহ ধরে বরফ পাচ্ছি না। অথচ এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই সময়ে ঘাটে বসে অলস সময় পার করতে হচ্ছে।”
আলীপুরের খান ফিশ আড়তের স্বত্বাধিকারী রহিম খান বলেন, বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে বরফের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকে ট্রাকে করে বরফ আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই বাড়ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহিপুর ও আলীপুর উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যায়। বরফের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় শুধু জেলেরা নন, আড়তদার, বরফকল মালিক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেম বলেন, জ্বালানি–সংকটের কারণে বর্তমানে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে এবং এ কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি–সংকট কেটে গেলে এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পর পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ইলিশের ভরা মৌসুমে বরফের এই সংকট অব্যাহত থাকলে মৎস্য আহরণ ও সরবরাহব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান করে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

আরো পড়ুন

চরফ্যাশনে সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুটি যেন মারণ ফাঁদ 

নুর উল্লাহ আরিফ, চরফ্যাশন  ব্যস্তময় জীবনে যাতায়াতে নিরাপদ সড়ক সবার কাম্য । ব্যস্ত সড়কের যাতায়াতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *