বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

সংকটে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা শুধু ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়’

​দেশের যেকোনো সংকটে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব থেকে তরুণ সমাজ নিজেদের দূরে রাখতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিউবি) ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইসতাফ আলভী। তিনি বলেন, সংকটে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা শুধু শ্রেণিকক্ষ বা ক্যাম্পাসের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা বাস্তবে প্রমাণ করেছেন।
​গতকাল সোমবার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, সিউবি ছাত্রদল সভাপতি কাজী ইসতাফ আলভীর জন্মস্থান বরিশাল সদর উপজেলায়।
​আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে কাজী ইসতাফ আলভী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে, তা তারা রাজপথে দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনের সময় দেশের বৃহত্তর সামাজিক ও নাগরিক সংকটে তারা সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”
​জুলাই আন্দোলনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা প্রতীকী ঘটনা ছিল না, বরং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন। তবে বিভিন্ন আলোচনা ও উপস্থাপনায় সিউবি শিক্ষার্থীদের এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা যথেষ্টভাবে উঠে না আসায় তিনি ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন। বরিশাল সদরের সন্তান আলভী বলেন, বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান হলেও সিউবি শিক্ষার্থীদের অবদান আড়ালে থেকে গেছে, যা ইতিহাসে যথাযথভাবে স্মরণ করা উচিত।
​বক্তব্যে তিনি আন্দোলন চলাকালীন এক স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, পুলিশের পিছুহটার দৃশ্য আন্দোলনকারীদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক বা আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত যেকোনো সংকট তৈরি হলে সিউবি শিক্ষার্থীরা জনগণ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে মাঠে থাকবে।
​আন্দোলনকালে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, সিউবির কোনো শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে প্রশাসন বা শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো চাপের মুখে পড়েননি। বরং সবাই নিজের বিবেক ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রীর কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও বিভিন্ন উপস্থাপনায় বিকাশমান এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
​জুলাই আন্দোলনে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বাড্ডা এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ‘আরিফ ভাই’-এর অবদান তুলে ধরেন। টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই ব্যবসায়ী তার গুদাম থেকে আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে পানির সংস্থান করে দিয়েছিলেন।
​বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কাজী ইসতাফ আলভী অনুষ্ঠানের শিক্ষক, প্রশাসন এবং আয়োজনকারী শিক্ষার্থী—ইমতিয়াজ, শাকির, রুবেল ও তাওহীদসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আরো পড়ুন

মসজিদ হোক ঈমান-আমল ও নৈতিকতা গড়ার কেন্দ্র -ছারছীনার পীর ছাহেব

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ আমীরে হিযবুল্লাহ ও ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *