বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

গলাচিপায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রকল্প: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

মনজুর মোর্শেদ তুহিন পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

‘কাগজে কাজ, বাস্তবে নেই’—প্রকাশিত সেই সংবাদ এবার তদন্তের মুখে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ বাণীসহ একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি নথিতে প্রকল্পগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন ও অর্থ উত্তোলনের তথ্য থাকলেও সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্পের অস্তিত্ব না পাওয়া এবং নথির সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ আগস্ট পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিদর্শন প্রতিবেদনসহ মতামত দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানকে। সদস্য ও সদস্য সচিব পটুয়াখালী এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. মেজবাউল আলম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. মেহেদী হাসান, সহকারী প্রকৌশলী (IBRP প্রকল্প), এলজিইডি, পটুয়াখালী এবং মো. মেহেদী হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (CDRSSWRMP প্রকল্প), এলজিইডি, পটুয়াখালী।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি নথি অনুযায়ী, গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি ও রাজস্ব খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে মোট ৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৭২ টাকা ব্যয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে পৌরসভার ড্রেন পর্যন্ত পাইপ ড্রেন, দুটি ভি-ড্রেন, উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত এপ্রোচ সড়ক এবং বাউন্ডারি ওয়াল, কাঁটাতার ও গেট নির্মাণের মতো কয়েকটি কাজ নিয়ে সরেজমিনে প্রশ্ন ওঠে।

বিশেষ করে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারি ওয়াল মেরামত, কাঁটাতারের বেষ্টনী ও গেট নির্মাণের প্রকল্পে দৃশ্যমান কাজের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য দাবি করেছিলেন, সব কাজ শতভাগ সঠিকভাবে হয়েছে এবং কোনো কাজ বাকি নেই। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক জানিয়েছিলেন, নথিপত্র যাচাই ও তদন্ত ছাড়া প্রকৃত অবস্থা বলা সম্ভব নয়।

এখন এলজিইডির গঠিত কমিটির সরেজমিন তদন্তেই নির্ধারিত হবে—নথিতে দেখানো প্রকল্পগুলো বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, ব্যয়ের সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা কতটা।

তদন্ত প্রতিবেদন কী আসে, সেটিই এখন গলাচিপার আলোচিত ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আরো পড়ুন

মসজিদ হোক ঈমান-আমল ও নৈতিকতা গড়ার কেন্দ্র -ছারছীনার পীর ছাহেব

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ আমীরে হিযবুল্লাহ ও ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *