রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

মাদকরোধে দরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ 

শাহীন কামাল:  লালমনিহাট কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম খুন হওয়ার পরের দিনই মাদকের থাবায় ঝড়ে পড়লো পুরো একটা পরিবার। রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে হত্যা হওয়া ঘটনা ও ঘটনা পরবর্তী ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ায় সোচ্চার সোশাল মিডিয়াসহ দেশের গণমাধ্যম। একটা পরিবার এইভাবে খুন হওয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ঘটনার মূল উদ্ঘাটন না হলে নানাবিধ প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে ধর্মীয় কার্ড খেলার চেষ্টাও শুরু হয়েছিলো। দেশের যেকোনো নাগরিকদের মৃত্যুতে তার কারণ উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি দাবির পরিবর্তে মৃত কিংবা অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয় যদি বড় হয় তবে তা অশুভ ইঙ্গিত। এই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হতে না পারলে আমাদের অগ্রগতি ব্যহত হবে। প্রতিদিনই মাদকসেবিদের কিছুনা কিছু অপরাধ মিডিয়ায় আসছে। দিনে দিনে তা ভয়াবহ পরিনতির দিকে যাচ্ছে।
হত্যাকান্ড পরবর্তী সময়ে এটাকে ডাকাতির ঘটনা বলা হলেও পরবর্তীতে পুলিশ খুনের সাথে জড়িত অন্তত দুইজনকে আটক করেছে। মাদকাসক্ত দুই তরুণ নিহত শিক্ষকের ছাদে ইয়াবা সেবন ও তা নিয়ে পরবর্তী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় একে একে চারজন হত্যা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। হত্যাকারী ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড শেষে দীর্ঘসময় ঐ বাড়িতে অবস্থান করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই একটিমাত্র ঘটনা মাদকের ভয়াবহতা যে চিত্র তুলে ধরেছে তা ভয়াবহ। খুনিরা কতটা অমানবিক আর ভাবলেশহীন তা সহজেই অনুমেয়। এমন মাদকাসক্ত তরুণ শুধু রংপুরে আছে নাকি আমার আপনার চারপাশে অসংখ্য প্রটেনশিয়াল খুনি ঘুরে বেড়াচ্ছে? মাদকের বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে আমার- আপনার নিরাপত্তা কতটুকু, তা ভাবনার বিষয়। মাদকদ্রব্য শুধু একটা অসুস্থ জেনারেশনকেই বাড়তে দিচ্ছেনা, এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে সমাজের আপদ সৃষ্টিকারী সম্ভাব্য খুনি – যা আমাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার পথ আগলে রাখছে।
এদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এখন?  গত সরকারের আমলে ইয়াবার নাম উচ্চারিত হলেই সাথে সাথে একটা নাম চলে আসতো। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক নিয়ন্ত্রণকারী বদি তখন গদির সহায়তায় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। দেশের মানুষ যখন তার বিষয়ে মুখ খোলা শুরু করেছে তখন তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দিয়ে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছিলো তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল। কিন্তু এখন? সেই বদির সাম্রাজ্য আজ কার দখলে? কেমন করে মাদক সমাজে ছড়িয়ে পরছে তা বের করা দরকার। কাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় মাদক আজ যুব সমাজকে গ্রাস করেছে, তা বের করতে হবে। যারা আমাদের তরুণদের অন্ধকার পথে চালিত করছে, তাদের রুখতে না পারলে আমার – আপনার মুক্তি নেই। পত্রিকায় দেখেছেন নিশ্চয়, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এক কলেজ শিক্ষক নিহত হয়েছেন একদিন আগে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে  লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদকসেবিদের  হামলার প্রাণ গিয়েছে তার।আজ বলি হলেন এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ পুরো পরিবার। মাদক রুখতে না পারলে কেউ মুক্ত নয়। কথা বললেও আপনি মারা যেতে পারেন। চুপ থাকলেও।
মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জোড়ালো হোক। রাষ্ট্র সমস্যাটাকে জরুরি মনে করে আমলে নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সমাজের অনেক সমস্যা সমাধান হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ছাত্র-যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক বন্ধের বিকল্প নেই। মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ বক্তব্যসর্বস্ব আর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে না রেখে সত্যিকারের কার্যকারিতা পেলেই আমাদের মুক্তি। তা না হলে আমাদের নিস্তার নেই। মাদকের রুট বন্ধ করার সাথে সাথে সকল ধরনের কারবারিদের আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। অনেক দেরি হয়েছে ইতিমধ্যে। রাষ্ট্র যতদ্রুত বুঝতে পারবে, ততই মঙ্গল। মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবী। রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করতে হবে। সরকারকে নিতে হবে জিরো টলারেন্স নীতি। কার্যকর সেই নীতির সাথে আপোষ করলে আমাদের ভয়াবহ পরিনতি ভোগ করতে হবে,  তা আমরা কেউ-ই চাই না।

আরো পড়ুন

বাবুগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *