নিজস্ব প্রতিবেদক : “বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নন, বরং তিনি পুরো মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ পৃথিবীতে এসেছিলেন। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে যখন নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না, সমাজজুড়ে নির্যাতন ও অরাজকতা চরম আকার ধারণ করেছিল—ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশ্ববাসীর মুক্তিরদূত হিসেবে প্রেরণ করেন।”
পটুয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলা শাখা আয়োজিত ‘সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সুধী সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল আহসান। এতে জেলার বিভিন্ন স্তরের সুধীজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে রাসুল (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি ও সমাজ সংস্কারের ইতিবৃত্ত তুলে ধরে বলেন, “৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আল-কুরআন নাজিলের মাধ্যমে তিনি এমন এক ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়েছিলেন, যা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে। তাঁর পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনই আমাদের জন্য একমাত্র অনুকরণীয় পথ।”
কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মহানবীর (সা.) চরিত্রকে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই আলোকে নিজেদের চরিত্র ও জীবন গঠন করলেই কেবল পরকালে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম, আন্তর্জাতিক মুফাসসির কুরআন ও জামালী তালীমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ মাওলানা জামাল উদ্দীন, পটুয়াখালী বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জাকির হোসাইন আজমী।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য বক্তারাও তাঁদের বক্তব্যে ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।