ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা মানসিক হয়রানির (র্যাগিংয়ের) শিকার হয়ে এক নবীন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর নাম মো. শরিফুল ইসলাম তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টম্বর) র্যাগিংয়ের শিকার ঐ শিক্ষার্থীকে গভীরাতে শেরে বাংলা মেডিকেলে (শেবাচিম) জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শশী ছাত্রী নিবাস রাস্তা দিয়ে সোজা নদীরপাড়ে বালুর মাঠ এলাকায় সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে ৮থেকে ৯জন সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী ১৫ তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়।
ঐসময় ১৫তম কিছু জুনিয়র না যাওয়াতে সিনিয়রা তাদেরকে শাসিয়ে যারা আসেনি তাদেরকে দ্রুত হাজির করার জন্য বলে। পরে রাত ৯টার দিকে বাকি নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে ৯টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত র্যাগিং দেয় নবীন শিক্ষার্থীদের। এসময় নবীন শিক্ষার্থীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিকভাবে হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে ঐ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারায় বাকি শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এই র্যাগিং চলাকালে মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের অন্তত ১০জন ইমিডিয়েট সিনিয়র উপস্থিত ছিলেন। র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলেন, নূর মোহাম্মদ পরশ(CR); অনিক; নাজ; শ্রাবণ ; অনুপম; লিমন; জয়; রিয়াদ; প্রীতম এবং রাফি
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আজ আমাদের সেই স্বপ্নের জায়গাটিই যেন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ১৪তম ব্যাচের কিছু ভাই র্যাগিংয়ের নামে আমাদের এক বন্ধুকে এমনভাবে নির্যাতন করেছেন যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ইসলামীয়া হাসপাতালে নেওয়া হয় পরবর্তীতে সেখান থেকে শেরে বাংলা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।”
মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ১৫ তম ব্যাচের এক নবীন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,” আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, কারও হাতে নির্যাতিত বা অপমানিত হতে নয়। একজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের নামে অজ্ঞান করে হাসপাতালে নিতে হলে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। পরিবার থেকে দূরে এসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি মনে করি। কিন্তু যদি এই ক্যাম্পাসেই আমাদের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করব? এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।আমরা পড়াশোনা করতে বাড়ি ছেড়ে এসেছি-ভয় নিয়ে বাঁচতে নয়। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।”
অসুস্থ নবীন শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম শেরে বাংলা মেডিক্যালে চিকিৎস্যাধীন থাকার তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিজের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে ১৪ তম ব্যাচের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) বলেন,” আমি সেখানে পরে গিয়েলাম। ছেলেটা আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে আমরা তাকে হসপিটালে ভর্তি করি।” এরপর তিনি কল কেটে দেন এবং পরে একাধিক বার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালো কোনো সাড়া মেলেনি।
মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন,”র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। ছেলেটার আগে থেকেই পেটের সমস্যা ছিল, অসুস্থ হওয়ার পরে তাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। আর আমিও রাতে আসছি। ওর বাবার সাথেও কথা হয়েছে ওর বাবা আসবে। যদি র্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ লিখিত আসে তাহলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “র্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তিনি মেডিকেলে দেখতে যাবেন এবং এই ঘটনায় অভিযুক্তদের তদন্তপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।”
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।