নিজস্ব প্রতিবেদক: যাত্রী সেজে অটোরিকশায় উঠেছিল চক্রটি। সুযোগ বুঝে আখের রসের সঙ্গে খাইয়ে দেওয়া হয় বিষাক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য। মুহূর্তেই ঢলে পড়েন চালক। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরা। মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়া সেই চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পাশে ছিলেন না কোনো স্বজন। তবে অভিভাবকহীন সেই তরুণের পাশে দেবদূতের মতো দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর নতুল্লাবাদ এলাকায়। ভুক্তভোগী সেই অটোরিকশাচালকের নাম আকাশ। আর তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে যাত্রীবেশে আকাশকে লক্ষ্যবস্তু বানায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। পথিমধ্যে কৌশলে তাঁকে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত আখের রস পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনতাই করে চম্পট দেয় চক্রটি। খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় আকাশকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আকাশের জ্ঞান ফেরেনি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বা কোনো স্বজন না থাকায় হাসপাতালের শয্যায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন শেবাচিম হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম। কোনো পরিচয় না পেয়ে তিনি নিজেই ওই অটোরিকশাচালকের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজ খরচে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কেনাসহ চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালান এই পুলিশ কর্মকর্তা।এসআই নাজমুলের আন্তরিকতায় অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন আকাশ।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন আকাশের বাবা তোতা গাজী, যিনি বরিশাল নগরীর পলাশপুর ৩ নম্বর গলির বাসিন্দা।
পরবর্তীকালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুস্থ আকাশকে তাঁর বাবার জিম্মায় নিরাপদে হস্তান্তর করেন এসআই নাজমুল। সন্তানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুলিশের এই সহায়তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান বাবা তোতা গাজী।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।