আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে সংস্কার করা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেড় মাসের মাথায় ধসে পরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়সারা কাজ ও ভাঙ্গনের তীর থেকে মাটি তুলে সংস্কার করায় এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। বাঁধ ধসে পরায় ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের মানুষ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় চলতি বছর ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বাঁধ সংস্কার ও জিওব্যাগ ফেলার জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।
সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় বরগুনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানমেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স মনি ট্রেডার্স এবং বরিশালের মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু করে ২১ সেপ্টেম্বর শেষ করেন। কাজ শেষের মাত্র দেড় মাসের মাথায় সংস্কার করা বাঁধ জিওব্যাগসহ রবিবার রাতে জোয়ারের সময় প্রায় তিশ’ মিটার এলাকা জুরে পায়রা নদীতে ধসে পরে। এছাড়া আরো দুইশ’ মিটার বাঁধে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ফের বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা
না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজানপাড়া, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান এবং মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়সারা তদারকির কারনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর তীর থেকেই মাটি খনন করে বাঁধ নির্মাণ করায় মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। এছাড়া জিও ব্যাগগুলোতে নিয়মানুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বালু ভর্তি করার কথা থাকলেও, নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে বাঁশ খুটি ও টিনের বেড়া দিয়ে তা ডাম্পিং করা হয়েছে।
যে কারনে বাঁধ ধসে পরেছে। তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী বলেন, ভাঁধ ভাইঙ্গা গ্যালে মোগো ঘরবাড়ি ধান ক্ষেত সব তলাইয়া যাইবে। মোগো ধান নষ্ট অইয়া গ্যালে হারা বছর মোরা কি খামু হেই চিন্তায় আছি।স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া, ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর অভিযোগ কওে বলেন, প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়সারা ভাবে বেড়িবাঁধ মেরামত করে যে কারনে বার বার বাঁধ ধসে পরে। তিনি আরো বলেন, কাজ শুরুর সময়ই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন জিও ব্যাগগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করলে ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যাবে। আমরা তখনবিপদে পরবো।
বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধসের ঘটনায় মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স-এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন জানান, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই। যে জায়গাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আসলে একটি নদীর মোহনা।
মোহনার এই জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন কবলিত হচ্ছে। তাই নদীর এই পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা ছাড়া ভাঙন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে দায় স্বীকার করে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল জানান,বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এক সপ্তাহের ভিতরে ফের সংস্কারকাজ করা হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নদীর তীর
থেকে মাটি তুলে সংস্কারের বিষয়টি অস্বীকার কওে বলেন, এই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন
প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি তা দ্রুত পাশ হবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।