বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

মুলাদী নয়া ভাঙ্গনি নদীর তীরে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়

ভূঁইয়া কামাল মুলাদী
বরিশালের মুলাদী পৌরসভার মুলাদী বন্দরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নয়া ভাঙনি নদীর তীর বালুর মাঠের চারেপাশে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঈদ ও ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী কেন্দ্র হিসেবে সেতু বন্ধুন করে দিয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ নয়া ভাঙনি সেতুটি।
১ হাজার ৩৭৭ ফিট সেতুটি মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানার হাজার হাজার বিভন্ন বয়সী ভ্রমণ পিপাসুদের মিলন মেলায় মুখরিত হয়ে উঠে।

ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক রয়েছে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা। সেতুটিতে সকল বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় শহুরে জীবনের যে কোন পার্কের চেয়ে এটি ছিল অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় উপভোগ্য একটি স্থান। এখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের সন্তানেরা।

স্থানীয়ভাবে চিত্ত বিনোদনের কোন সুযোগ ও পরিবেশ না থাকায় বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের ইচ্ছে পুরনের জন্য একবারের জন্য হলেও উপভোগ করেছেন সেতুটি।
সেতুটির উপর উঠলে চারিদিকের বাতাসে গরম শরীরকে শীতল করে ফেলে। প্রকৃতির শোভা উপভোগ করে সকাল ও বিকেল গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটানোর সকল উপাদান রয়েছে এখানে। প্রকৃতির নির্মল বাতাস, খোলা আকাশে মেঘের ভেলায় আত্মহারা হয়ে ভেসে চলেছেন যে যার স্বপ্নের গন্তব্যে। ভ্রমণ পিপাসুদের সকল সুবিধা না থাকলেও আনন্দ উপভোগের কমতি ছিলনা আগত ভ্রমণ পিপাসুদের।
ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় সেতুটির রূপ লাবণ্য বেড়ে যায় শতগুণে। সেতুটির উপরে উঠলে মুলাদী বন্দরে বড় বড় অট্টালিকা, উন্নতমানের দোকানপাট, লঞ্চ ঘাট, সেতুটির পশ্চিম পাশে রয়েছে পূর্ববাজার বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যময় এই মসজিদের দিকে তাকালেই নয়ন জুড়িয়ে যায়। মসজিদের সাথেই রয়েছে হাজারী তোজম আলী কবর স্থান। খরস্রোত নদীটি ওনার কবরের কাছে এসেই থেমে যায়। তাই ভ্রমণ পিপাসুরা সেতু ভ্রমণ করতে এসে কবরটি দেখে যান। নয়া ভঙ্গনি নদীর পূর্ব পাশে পর্যটটকদের আনন্দ দেয়ার জন্য আয়োজন করে থাকে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা।
শুধু সেতুটির উপর হেঁটেই আনন্দ উপভোগ করে তাই নয়। নৌকা অথবা ট্রলার নিয়ে সেতুটির নিচ দিয়ে নয়া ভাঙ্গনি নদীতে ভ্রমণ করে আনন্দ উপভোগ করেন পর্যটকরা।

সেতুটির পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল বালুর মাঠ। স্থানীয় যুবসমাজ মাঠটিতে বিকেল বেলা আয়োজন করে বিনোদন দেয়ার জন্য ট্রেন ভ্রমণসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক অনুষ্ঠান।
সেতুর দুই পাশে  রয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের নাস্তার জন্য হরেক রকমের ফুচকার দোকান ও আধুনিক মানের দারুচিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট।
ভ্রমণ পিপাসুরা ভ্রমণের জন্য সেতুটি বেছে নিলেও রয়েছে অনেক ঝুঁকি। পর্যটক মোঃ রাফিউর রহমান (সিরাত) ও মোঃ আহনাফ রহমান (সামিদ) বলেন, হাজার মানুষের মাঝেও সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করে শতশত যানবাহন। কখন কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্রমণ পিপাসুদের দাবী একটি নির্দৃষ্ট পার্কের ব্যবস্থা করা হলে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ ভোগ করা যেত।

আরো পড়ুন

উজিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রীসহ যুবককে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রী ও যুবককে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *