বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা: পটুয়াখালীতে মাঠ দিবস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের “মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প”-এর আওতায় স্পন ও মাশরুম উৎপাদন প্রদর্শনী উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া এলাকায় অবস্থিত মিলন মাশরুম পল্লীতে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ সাইফুল ইসলাম, মাঠ দিবসের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খামারবাড়ি, পটুয়াখালী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোছাঃ আখতার জাহান কাঁকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএপিপি প্রকল্পের পরিচালক ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক, বরিশাল হার্টিকালচার সেন্টার এর উপ-পরিচালক মোঃ অলিউল আলম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ শাহাদাত হোসেন, এবং রিপন প্রসাদ সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম মজুমদার।

মাঠ দিবসে মাশরুম চাষি ও উদ্যোক্তা অতিউর রহমান মিলন এর উৎপাদিত তাজা মাশরুম এবং মাশরুম দিয়ে তৈরি ফাস্টফুড, আচার, জেলি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যসহ মোট ১৫টি আইটেম প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় মাশরুমের পুষ্টিগুণ, বহুমুখী ব্যবহার এবং বাজার সম্ভাবনা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিলন মাশরুম পল্লীতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু রয়েছে। এখান থেকে আগ্রহী নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকায় মাশরুম চাষের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন, যা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারী উম্মেকুলসুম বলেন, মাশরুমের পুষ্টিগুণ ও আয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে আগে তেমন ধারণা ছিল না। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কাজ করে আয় করতে পারব এবং ভবিষ্যতে অন্যদেরও শেখাতে চাই।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা অতিউর রহমান মিলন বলেন, বর্তমানে মাশরুমের বাজার চাহিদা বেড়েছে এবং একই সঙ্গে আমার উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের জন্য এখানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি গ্রামে কিছু মানুষ মাশরুম চাষ করলে তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে মাশরুম চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাশরুমের বীজ ও স্পন সরবরাহে হর্টিকালচার সেন্টারগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মাঠ দিবসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় চাষি, নারী উদ্যোক্তা ও আগ্রহী উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

বাবুগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশ বাণী ডেক্স ঢাকা থেকে পরিবারসহ বরিশালে বেড়াতে এসে সন্ধ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *