বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

বরিশালের ছয়টি আসনে ১২ দলের প্রার্থী কারা ?

ফাহিম ফিরোজ //
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হলেও বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে ইসলামী সমমনা ১২ দলীয় জোট এখনো একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফলে একই জোটের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা। ভোটারদের প্রশ্ন-১২ দলীয় ইসলামী জোটের প্রকৃত প্রার্থী কে? কাকে ভোট দিলে আদর্শের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে? এই অনিশ্চয়তা নির্বাচনী মাঠে ইসলামী জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামী সমমনা দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বৃহৎ জোট গঠন করেছে। এই জোটে রয়েছে-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

তবে বরিশালের ছয়টি আসনে এই জোটভুক্ত দলগুলোর একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

জানাগেছে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ রাসেল সরদারের মনোনয়ন বৈধ হয়। এরা উভয়ই তাদের নির্বাচনী এলাকায় বেশ পরিচিত। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল মান্নান মাস্টার, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর মোহাম্মদ নেছার উদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনেও কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়ার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বরিশাল মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থীতা থেকে সড়ে দারিয়েছেন। তবে এ আসনে এখনও ১২ দলের দুই প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ এহছাক মোঃ আবুল খায়েরের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনের ভোটারদের কাছে বেশ পরিচিত এই প্রার্থীরা। উভয়ের অবস্থান ভালো। যে কারণে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মোঃ তারিকুল ইসলামের প্রার্থীতা বৈধ হয়েছে। এই আসন নিয়ে ১২ দলীয় জোটের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যেহুতু এ আসনেই অবস্থিত চরমোনাই পীরের দরবার, তাই এ আসনটি তারা জোড় দাবী করে আসছে।

অপরদিকে বরিশাল সদর আসনের সন্তান হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর থেকে এ আসনটির প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তারও এ আসনে বেশ পরিচিতি ও সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। তাই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়ন দাখিল করেছেন তিনি। তবে উভয় প্রার্থীর বক্তব্য হচ্ছে এখনও আলোচনা চলছে, ১২ দলীয় জোট যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন তারা।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মাহমুদুন্নবীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। নির্বাচনে তারা উভয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মাঠে রয়েছেন। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বরিশালের ৩টি আসনের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রতিক্রিয়া। বরিশাল-৫ আসনের ভোটার আরিফ বলেন, “আমরা ইসলামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু একই আদর্শের তিনজন প্রার্থী থাকলে কাকে ভোট দেবো বুঝতে পারছি না। এতে ভোট ভাগ হয়ে যাবে।” বরিশাল-৩ আসনের ভোটার মামুন বলেন, “১২ দল যদি এক হতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে? ঐক্যের অভাবেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বরিশাল-৪ আসনের ভোটার ইউসুফ বলেন, “আমরা চাই ইসলামী দলগুলো এক হয়ে শক্ত অবস্থান নিক। এখন যে পরিস্থিতি, এতে বিভ্রান্তি ছাড়া কিছুই নেই।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসলামী সমমনা দলগুলো সমঝোতায় না এলে এই বিভক্তি নির্বাচনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই ভোটব্যাংকে একাধিক প্রার্থী থাকায় সুবিধা পেতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিগুলো।

এখন দেখার বিষয়-ভোটের মাঠে নামার আগেই ইসলামী ১২ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে কিনা, নাকি এই বিভ্রান্তির দায় নিয়েই নির্বাচনে এগোতে হবে তাদের।

আরো পড়ুন

প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান’র রুহের মাগফিরাতে দোয়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল জেলা ও মহানগর প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মরহুম মেহেদী হাসান এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *