ফাহিম ফিরোজ ॥ পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে বুধবার। সিয়াম সাধনার এ মাসকে ঘিরে বরিশালের বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। তবে সেই সুযোগে খেজুর ও ফলফ্রুটের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের খেজুরে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
খেজুরের বাজারে দামের উল্লম্ফন:
রমজানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। কিন্তু সেই খেজুরই এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খোলা খেজুর যা কয়েকদিন আগেও ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-২৩০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বৃদ্ধি।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে-মরিয়ম খেজুর: ১২০০ টাকা কেজি, খুরমা খেজুর: ২৮০ টাকা কেজি, জাহেদী খেজুর: ৩২০ টাকা কেজি, নাগাল খেজুর: ৪০০ টাকা কেজি, বড়ই খেজুর: ৫০০ টাকা কেজি, গাবাজ খেজুর: ৫০০ টাকা কেজি, ছড়া খেজুর: ৬০০ টাকা কেজি, কামরাঙা খেজুর: ৬০০ টাকা কেজি, কালমি খেজুর: ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে এসব দামে খেজুর পাওয়া গেলেও শপিং সেন্টার ও অভিজাত দোকানে দাম আরও বেশি। অন্যদিকে, আজোয়া ও মাবরুম খেজুর কেজিপ্রতি ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
ফলের বাজারেও চড়া দর:
বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আঙ্গুর কিনতে এসে দাম শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যান। এমনকি ৪০০ টাকা কেজি দরে জুটা আঙ্গুরও কিনতে পারছেন না তিনি। বাজারঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কালো আঙ্গুর: ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি, সাদা আঙ্গুর: ৪০০ টাকা কেজি, মাল্টা: ৩২০ টাকা কেজি, কমলা: ২৭০ টাকা কেজি, আনার: ৪৫০ টাকা কেজি, আপেল: ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়। ক্রেতা রবিউল মিঠু বলেন, “গরিবের খেজুর এখন ২২০-২৩০ টাকা। ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন।” আরেক ক্রেতা জানান, সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর রমজানের বাড়তি খরচ চাপ সৃষ্টি করছে।
লঞ্চঘাট এলাকার ফল ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ধরনের খেজুরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে।” ফলপট্টির ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, “রমজান সামনে রেখে চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা অতিরিক্ত লাভ করছি না।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, “আসন্ন মাহে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং হিসেবে প্রতিদিন আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। আসলে রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়তি নিলে যথাযথ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রমজান শুরু হতে না হতেই বাজারে এমন অস্থিরতা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের মনিটরিং কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তিতে রমজান পালন করতে পারেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।