বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে জ্বালানি সমাধান: রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।

গতকাল বরিশাল-এ প্রান্তজন ট্রাস্ট, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল (ঋঊউ-ইধৎরংযধষ), ক্লিন, বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৃহৎ মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে বক্তারা এ দাবি জানান। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুর রহমান খোকন বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি খাতের এই রূপান্তরের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশে মূল বক্তব্যে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের (ঋঊউ) সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুভাষ দাস বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য এবং তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারগুলোর অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনতে পারলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই বৃহৎ জ্বালানি বিপ্লব শুরু করা সম্ভব।

প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ছাদ অব্যবহৃত রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। ৫ দফা দাবি-কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের নিকট পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো— ১. ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা। ২. সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন। ৩. সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তার গ্যারান্টি প্রদান। ৪. জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। ৫. জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিলে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

আরো পড়ুন

ভোলায় কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় মো.ফাহিম (১২) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *