জাকির হোসেন
পিরোজপুর ইন্দুরকানী উপজেলা ‘জিয়ানগর’ হিসেবে নামকরণের প্রজ্ঞাপন জারি । পিরোজপুর ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সরকারী প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারী ২০২৫ অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনস্বার্থে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপ-সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিতভাবে জারি করেছেন।
তথ্যসূত্রে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ পিরোজপুর সদর উপজেলার পারেরহাট, বালিপাড়া ও পত্তাশী ইউনিয়নের ৯৪.৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৯৭৬ সালে গঠিত ইন্দুরকানী থানাকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ৮৭তম বৈঠকে ইন্দুরকানী থানাকে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামে নামকরণের প্রস্তাব আনা হয়।
পরে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী স্থানীয় জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে ইন্দুরকানী সফর করে আল্লামা সাঈদীর প্রস্তাবিত নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামে নতুন এই উপজেলা উদ্বোধন করেছিলেন।
এরপর ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় পুনর্বিবেচনার পর উপজেলা ১৫ বছর ‘ইন্দুরকানী’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।
জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, “পুনরায় জিয়ানগর নাম ফিরে পাওয়ায় দলের নেতাকর্মীসহ আমরা আনন্দিত। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছিল।” পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি- মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন- “সাধারণ জনতার সহ আমরা সবাই খুশি, বিগত ক্যাসেট সরকার এটাকে পরিবর্তন করে ইন্দুরকানি রেখেছিল সেটার অবসান হয়েছে”
টগড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, জেলা জামায়াতের পেশাজীবী সভাপতি ডক্টর এ কে এম মাহমুদ বলেন-সাধারণ জনতা শিক্ষক ছাত্রসমাজ সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী জিজয়নগরের নাম পুনরায় ফিরে পাওয়াতে আনন্দিত ।
পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট একটি সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যা’সিস্ট হাসিনার পতনের পর একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আমি অন্তবর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব এ এফ হাসান আরিফের কাছে ‘ইন্দুরকানী’ নাম পরিবর্তন করে পুনরায় আল্লামা সাঈদীর রাখা নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ করণের দাবি নিয়ে জিয়ানগরের ৩ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জমা প্রদান করি।
আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে আল্লামা সাঈদীর দেওয়া জিয়ানগর নাম পুনর্বহালে জনমত যাচাইয়ে উপজেলার তিন স্থানে জনসমীক্ষার জন্য একটি টিম পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
জনমতসমীক্ষা শেষে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এ নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
অবশেষে, চলতি বছরের (২০২৬) শুরুর দিকে আমি আবারো অন্তবর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে আস্বস্ত করেছিলেন যে, ‘এই জানুয়ারীতেই আমরা নিকারের মিটিং করবো এবং ‘ইন্দুরকানী’-কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ হিসেবে ঘোষনা করবো। সেই কথা অনুযায়ী গত ৬ মাঘ ১৪৩২ তারিখের নিকারের সভায় ‘ইন্দুরকানী’-কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, যা এখন শুধু গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়।
শুরু থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত ‘ইন্দুরকানী উপজেলা’-কে পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ হিসেবে ঘোষনা করার এই কাজে যে বা যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন- তাদের প্রত্যেককেই আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাদেরকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বিএনপির সম্মানিত মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি বিশেষভাবে জিয়ানগরের সর্বস্তরের জনগনের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ জানাচ্ছি।
আমি একই সাথে জিয়ানগর উপজেলার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, গম্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগনকেও ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।